

আবিদ হাসান, হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদোন্নতির নামে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কাছ থেকে জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে সুপারিশকৃত পদোন্নতিপত্রে ভুল সংশোধন, মিসিং ফাইল সংযুক্তি, দ্রুত পদোন্নতির কাজ এগিয়ে নেওয়া এবং উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিসে বিভিন্ন খরচের কথা বলে এ টাকা নেওয়া হচ্ছে। টাকা দেওয়ার বিষয়ে কেউ আপত্তি বা মুখ খুললে তাকে চরাঞ্চলের বিদ্যালয়ে বদলি বা পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, হরিরামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সহায়ক শংকর বাবুর পরামর্শে শিক্ষক মাসুদ করিম ও কাউসার তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন খরচের কথা বলে এক হাজার টাকা করে নিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঝিটকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাসুদ করিম বলেন, তিনি কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেননি এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা।
একইভাবে ভাওয়ারডাঙী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাউসারও টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, হরিরামপুর উপজেলায় সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির জন্য ৩৯ জন শিক্ষক আবেদন করেছেন। তাদের মধ্যে ৩৪ জন পদোন্নতি পাবেন বলেও জানা গেছে। এছাড়াও সিনিয়র বেশ কয়েকজন শিক্ষক টাকা না দিয়ে সরকারি নিয়মে পদোন্নতির আশায় থাকলেও খরচের টাকা না দিলে পদোন্নতির পর চরাঞ্চলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি দেবেন বলেও দুঃখ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে কেউ মুখ না খুললেও টাকা লেনদেনের স্বীকারোক্তি আর কথোপকথন প্রতিবেদকের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
হরিরামপুর প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী সাইফুল ইসলাম বলেন, টাকা উত্তোলনের বিষয়ে তার জানা নেই। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তারের অফিসিয়াল মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
