

আশরাফুল ইসলাম, শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলার প্রায় সাত লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অবশেষে নেওয়া হয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। সরকারের অনুমোদনের মাধ্যমে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিনের শয্যা সংকট, রোগীর অতিরিক্ত চাপ এবং সীমিত চিকিৎসাসেবার যে ভোগান্তি ছিল, তা অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বিদ্যমান ৪১৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি নতুন ১৩টি উপজেলায়ও ১০১ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপন করা হবে। এই বৃহৎ কর্মসূচির আওতায় স্থান পেয়েছে সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা শার্শা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দেশের অন্যতম ব্যস্ত স্থলবন্দর বেনাপোলসহ বৃহৎ জনসংখ্যার এ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে মাত্র ৫০ শয্যার হাসপাতাল দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনা করা হচ্ছিল। প্রতিদিন ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগী চিকিৎসা নিতে আসায় হাসপাতালে শয্যা সংকট, রোগীদের মেঝেতে চিকিৎসা নেওয়া এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডে অতিরিক্ত চাপ ছিল নিত্যদিনের চিত্র। বিশেষ করে জরুরি বিভাগ, প্রসূতি সেবা ও শিশু বিভাগের ওপর ছিল সবচেয়ে বেশি চাপ।
স্থানীয় এলাকাবাসী বলেন, এটি শুধু শয্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নয়, শার্শার স্বাস্থ্যসেবায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। ১০১ শয্যায় উন্নীত হলে চিকিৎসাসেবার মান বাড়বে, রোগীদের দুর্ভোগ কমবে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর বা খুলনায় ছুটে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকাংশে কমে আসবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক পারভেজ বলেন, সরকারের এই অনুমোদন শার্শাবাসীর জন্য অত্যন্ত সুখবর। হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নীত হলে অবকাঠামোগত সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসক, নার্স ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে এবং অধিকসংখ্যক রোগীকে মানসম্মত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।
সচেতন মহলের মতে, সীমান্তবর্তী এবং অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ শার্শা উপজেলার জনসংখ্যা, বেনাপোল স্থলবন্দরের কারণে প্রতিদিনের বিপুল মানুষের যাতায়াত এবং চিকিৎসা চাহিদার তুলনায় বর্তমান হাসপাতালের সক্ষমতা দীর্ঘদিন ধরেই অপ্রতুল ছিল। সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শুধু শার্শাই নয়, পার্শ্ববর্তী কয়েকটি উপজেলার মানুষও উন্নত স্বাস্থ্যসেবার সুফল পাবেন।
তারা আরও বলেন, এখন দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ, শুধু শয্যা বৃদ্ধি নয়, পূর্ণাঙ্গ জনবল ও আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত হলেই এই উন্নীতকরণের প্রকৃত সুফল সাধারণ মানুষ পাবে।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সরকারি অনুমোদন সীমান্ত অঞ্চলের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে একটি সময়োপযোগী এবং যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
