

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনকে ভারত একটি ‘আইনি বিষয়’ বলে উল্লেখ করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, আইনি প্রক্রিয়াতেই তার নিষ্পত্তি হবে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।
জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। যেকোনো প্রত্যর্পণ আইনি বিষয় এবং তা যথাযথভাবে দেখা হবে।
ব্রিফিংয়ে সম্প্রতি শেখ হাসিনার রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে ভারতের মনোভাবের কথা জানতে চান এক সাংবাদিক। তিনি জানতে চান, শেখ হাসিনার নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারত সরকারের আলোচনা হয়েছে কিনা।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সরাসরি এই প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি। তিনি বলেছেন, যেকোনো প্রত্যর্পণই আইনি বিষয়। আইনি প্রক্রিয়াতেই এর নিষ্পত্তি হবে।
শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারতের মনোভাবের কোনো বদল ঘটেনি বলেও উল্লেখ করেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে কিছু ভারতীয় উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। এক সাংবাদিক জানতে চান, ১১টি প্রকল্প যা ঘোষিত হয়েছিল পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কি না।
এই প্রশ্নের উত্তরে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, উন্নয়নমূলক সহযোগিতা প্রকল্প পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে গৃহীত। সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
গণ–অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। তার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন তিনি। জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাঁকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, তিনি ও আওয়ামী লীগের অন্য নেতারা ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ব্যাপক আন্দোলনের মুখে হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। তারপর থেকেই তিনি ভারতে অবস্থান করছেন।
