

স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা: কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বেড়াখলা আবদুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাসিনা ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, গত প্রায় ১৮ মাস ধরে ওই শিক্ষক নিয়মিত কোনো শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করেননি। অভিযোগ রয়েছে, গত চার মাসে তিনি হাতে গোনা কয়েক দিন বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে ক্লাস না নিয়েই চলে গেছেন।
বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা ঘেঁটে দেখা যায়, এপ্রিল মাসে তিনি একদিনও বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। মে মাসে তিন দিন এবং জুন মাসে চার দিন হাজিরা দিয়েছেন। চলতি জুলাই মাসের ১৪ তারিখ পর্যন্ত তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হননি।
বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, প্রায় দেড় বছর ধরে তারা হাসিনা ইসলামের কোনো ক্লাস পাচ্ছে না। এতে তাদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
সহকারী শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলাম আল-আমিন বলেন, "ম্যাডাম দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত স্কুলে আসেন না। কেন আসেন না, সেটি তিনিই ভালো বলতে পারবেন।"
সহকারী শিক্ষক খাদিজা বেগম বলেন, "মাসে দুই-তিন দিন এসে হাজিরা দিয়ে চলে যান। কোনো ক্লাস নেন না।"
আরেক সহকারী শিক্ষক মো. মেহেদী হাসান বলেন, "তার ক্লাসগুলো নিয়মিত ফাঁকা যাচ্ছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।"
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "গত প্রায় ১৮ মাসে তিনি কোনো ক্লাস নেননি। মাঝে মধ্যে এসে হাজিরা দিয়ে চলে যান। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে সমস্যা হচ্ছে।"
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রউফ জানান, বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী শিক্ষক হাসিনা ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল করিম বলেন, "বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। এখানে কিছু মামলা-সংক্রান্ত বিষয়ও রয়েছে। তবে শিক্ষক বিদ্যালয়ে না আসা এবং ক্লাস না নেওয়ার অভিযোগ সঠিক।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা জাহান বলেন, "বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিখিত অভিযোগ দিলে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
