ঢাকা
১৩ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ৯:২৭
logo
প্রকাশিত : জুলাই ১৩, ২০২৬

কক্সবাজারে বন্যা-পাহাড়ধসে মৃত ৩১, দুর্গত এলাকায় খাদ্য ও পানির সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার: টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসে কক্সবাজারে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে পৌঁছেছে। বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনো দেখা দিয়েছে সুপেয় পানি ও খাবারের সংকট।

রোববার (১২ জুলাই) রাত ৮টার দিকে রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া এলাকায় বন্যার স্রোতে ভেসে মারা যান নিরঞ্জন চন্দ্র দাশ (৬৫)। স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়ক পার হয়ে বাড়ি ফেরার সময় তিনি প্রবল স্রোতে ভেসে যান। প্রায় এক ঘণ্টা পর তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোহাম্মদ আনিছুর রহমান জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

একই দিন সন্ধ্যায় চকরিয়ার কৈয়ারবিল এলাকায় নিখোঁজ কিশোর সজিব দাসের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। প্রায় ২৩ ঘণ্টা ধরে নিখোঁজ থাকার পর তাঁর দেহ পাওয়া যায়। সজিব কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবর ডেইল এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং কৈয়ারবিলে নানির বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেব।

এর আগে শনিবার (১১ জুলাই) কক্সবাজার পৌর এলাকায় পাহাড়ধসে এক গৃহবধূ এবং পেকুয়া ও চকরিয়ায় বন্যার পানিতে ভেসে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। গত আট দিনে জেলার একটি পৌরসভা ও ছয় উপজেলায় মোট ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১৫ জন রোহিঙ্গাও রয়েছেন।

বন্যার পানি কমতে শুরু করায় বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ঘরবাড়ি, ফসলের মাঠ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানি সরে গেলেও কাদামাটি পরিষ্কার করতে হিমশিম খাচ্ছেন বাসিন্দারা।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যসংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। সরকারি উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ চললেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

চকরিয়ার মাতামুহুরী এলাকার আব্দুল মতিন বলেন, “তিন দিন পানিবন্দি থাকার পর পানি কমেছে, কিন্তু এলাকায় এখনো বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট রয়েছে। দরিদ্র মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।”

এদিকে ত্রাণ বিতরণকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন বলেন, বন্যাদুর্গত কোনো মানুষ সরকারি সহায়তা থেকে বাদ পড়বে না। প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ ও পুনর্বাসনে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান জানান, জেলার ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬৯টি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। জেলা প্রশাসনের আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্গত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন এবং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram