ঢাকা
১৩ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ৯:২৪
logo
প্রকাশিত : জুলাই ১৩, ২০২৬

নিজেদের পরিবেশ নিজেদের রক্ষা করতে হবে : বরিশালে প্রধানমন্ত্রী

জিহাদ রানা, বরিশাল ব্যুরো চীফ: বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ মিলে যুদ্ধ করে আমরা এ দেশ স্বাধীন করেছি। মাত্র কয়েকদিন আগের কথা, স্বৈরাচারকে এ দেশ থেকে বিদায় করেছি। সব শ্রেণি-পেশার, সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ রাজপথে নেমে এসে স্বৈরাচারকে দেশ থেকে হটিয়েছে। এভাবে সবাই যদি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের জন্য, মানুষের জন্য ভালো কাজগুলো করি, তাহলে সবাই উপকৃত হবো। আসুন এই বৃক্ষ রোপণের দিনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হই, যে যার অবস্থান থেকে পরিবেশকে সুন্দর ও ভালো রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা সোয়া দুইটায় বরিশাল নগরীর ত্রিশ গোডাউন সংলগ্ন সাগরদী খালের দুইপাশে একযোগে সাড়ে তিনশ' গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও বলেছেন, নিজেদের পরিবেশ নিজেদের রক্ষা করতে হবে, নিজেদের ঘর যদি নিজেরা গুছিয়ে না রাখি তাহলে ঘরটা ময়লা হয়ে যায়। ঠিক একইভাবে আমরা যদি আমাদের এলাকা, আমাদের এরিয়া, আমাদের পাড়া, আমাদের দেশ নিজেরা পরিস্কার না রাখি, নিজেরা যদি পরিবেশের দিকে খেয়াল না রাখি, তাহলে ভুক্তভোগী আমরাই হবো। অন্য দেশের সুন্দর সুন্দর জায়গা নিয়ে আমরা আফসোস করবো কিন্তু নিজের দেশের জায়গাগুলো সব নষ্ট করে দেবো, তা হতে পারেনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাছের চারা রোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে না, আমি অনুরোধ করবো স্থানীয়সহ যারা চারা রোপণ করলেন তারা সবাই মিলে গাছগুলোর যত্ন নেবেন। গাছগুলো বড়ো হলে শুধু স্থানীয়রাই নয়, এখানে যারা আসেন তারাও উপকৃত হবেন।

তিনি বলেন, সুন্দর প্রবহমান গুরুত্বপূর্ণ সাগরদী খালের যত্ন করা শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়, এর দুইপাশে যত মানুষ আছে তাদেরও সবাইকে এ খালের যত্ন করতে হবে। খালের ভেতর পলিথিনসহ অনেক বোতল ভেসে আসে বিভিন্ন সময়, আপনারা যারা স্থানীয় রয়েছেন তারা খালের ভেতরে নিজেরা কিছু ফেলবেন না, আর অন্যদের ফেলতেও বারণ করবেন। সিটি করপোরেশনের বিন রয়েছে-তারমধ্যে যেন পানির বোতল, টিস্যু ফেলতে হবে, এজন্য সিটি করপোরেশনকেও প্রচারণা চালাতে হবে।

এসময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান সহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক ধরে বরিশালের গৌরনদীর ভূরঘাটা এলাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৌঁছেছেন। সরকার গঠনের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম বরিশাল সফর। এসময় তার গাড়ি বহরকে বরিশাল জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্যমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন সহ স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। গৌরনদীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও ফ্যামিলি কার্ড প্রদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শেষে বরিশাল নগরীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী। সড়কের দুই পাশে থাকা মানবপ্রাচীরের মধ্যদিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর বেলা দুইটায় বরিশাল শহরের বান্দরোডে এসে পৌঁছায়।

আগামী এক বছরে ৪১ লাখ পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে: আগামী এক বছরের মধ্যে সারাদেশের ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে ঘোষনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে সাড়ে দশটায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর অশ্বীনি কুমার ইনষ্টিটিউট মাঠে গৌরনদী উপজেলার ফ্যামিলি কার্ডধারী পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এই ঘোষনা দিয়েছেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে প্রায় চার কোটি পরিবার আছে। আমরা এই পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ধীরে ধীরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব। নির্বাচনী ইশতেহারে আমরা এই কথা বলেছিলাম। আজকে গৌরনদীতে ছয়শ’ পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন। আরো পরিবার বাকি আছে। ধাপে ধাপে আমরা তাদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকার গঠন করার পরে যে বাজেট পেয়েছিলাম। সেই বাজেট হলো আগের সরকারের তৈরি করা বাজেট। সেই বাজেটে তারা ফ্যামিলি কার্ডের জন্য কোন বরাদ্দ রেখে যায়নি। গত কয়েকদিন আগে জাতীয় সংসদে আমরা বাজেট উপস্থাপন করেছি। এই বাজেটে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গ্রামের যে অসহায় দুঃস্থ পরিবারগুলো আছে আমরা ধীরে ধীরে তাদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। আগামী এক বছরের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের জন যেই বাজেট রয়েছে সেই বাজেটের ওপর ভিত্তি করে আগামী এক বছরে সারা বাংলাদেশে ৪১ লাখ পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব। সেই হিসেবে আগামী এক বছরের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় গড়ে ৭ হাজার ফ্যামিলি কার্ড পাবে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে সকল পরিবারের হাতে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশকে সামনেরদিকে এগিয়ে নিতে হলে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের শিক্ষা এবং একইভাবে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় নারীদের জন্য দশম শ্রেনী পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা নারীদের স্বাবলম্বী করার জন্য অনার্স (স্নাতক) পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করবো। যে সকল মেয়েরা ভাল রেজাল্ট করবে তাদের জন্য আমরা বৃত্তির ব্যবস্থা করবো। শিক্ষার পাশাপাশি নারীরা যাতে স্বাবলম্বী হতে পারে সেই জন্যই আমরা এই ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রথম পর্বে তিনি গৌরনদীতে অবস্থান করেন। এ সময় তাকে স্বাগত জানিয়েছেন বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন। গৌরনদীতে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী উপজেলার সরিকল-বাটাজোর খালের দুই পার্শ্বে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ কর্মসূচির আওতায় একযোগে আড়াই হাজার বৃক্ষরোপণ করা হয়। দীর্ঘ ২২ বছর পর গৌরনদীতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দের আবহ। বরিশালের প্রবেশদ্বার গৌরনদীর ভুরঘাটা থেকে বাটাজোর পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার মহাসড়কের দুইপাশে বৈরী আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ সকাল থেকেই দাঁড়িয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাস থেকে হাত নেড়ে গৌরনদীবাসীর অভিবাদন গ্রহণ করে তাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ সবার আগে বাংলাদেশ: আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ জন্য আমাদের শ্লোগান হচ্ছে- বৃক্ষ রোপনে সাজাই দেশ সবার আগে বাংলাদেশ। তিনি আরও বলেছেন, দেশে প্রয়োজনের তুলনায় গাছের সংখ্যা কম। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশ রক্ষা এবং দেশকে আরও সবুজ করে তুলতেই এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

সোমবার (১৩ জুলাই) বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল-বাটাজোর খালের দুই পার্শ্বে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি আরও বলেছেন, দেশে যে পরিমাণ গাছ থাকা দরকার, তা নেই। তাই আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। এখন আগের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে। দেশকে সুন্দর ও বাসযোগ্য রাখতে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি প্রতিটি গাছের যত্ন নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, নিজেদের দেশকে নিজেরাই ঠিক করতে হবে, বাইরের কেউ এসে ঠিক করে দিয়ে যাবে না। সবশেষে প্রধানমন্ত্রী ১০ টা ৫৪ মিনিটে গৌরনদীর বাটাজোর থেকে বরিশালের উদ্দেশে রওয়ানা করেছেন।

গাড়ি বহর থামিয়ে শিক্ষার্থীদের সেলফি তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী: হঠাত করে থেমে গেল প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহর। সেলফিতে বন্দী হলো একঝাঁক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন। মুহুর্তটি ছিল সত্যিই অসাধারণ। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার শিশু নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জীবনে এটি হয়ে থাকবে এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি। যে দৃশ্য তারা কেবল কল্পনায় ভেবেছিল, সেটিই বাস্তবে ধরা দিয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বাস বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের সাত মাইল স্টেশন অতিক্রম করে বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীস্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল।

এ সময় শিশু নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য অপেক্ষা করছিল। শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ও ভালোবাসা দেখে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাসটি থামানো হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, সালাম দেন এবং তাদের পড়াশোনার খোঁজখবর নিয়েছেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের হাতে ফুটবল ও ব্যাডমিন্টন সেটসহ বিভিন্ন ক্রীড়াসামগ্রী তুলে দিয়েছেন এবং খেলাধুলার প্রতি আরও আগ্রহী হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।

প্রায় আড়াই মিনিট ধরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রাণবন্ত আলাপচারিতার একপর্যায়ে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রীকে আঙ্কেল বলে সম্বোধন করে তার সাথে সেলফি তোলার আবদার জানায়। প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে শিক্ষার্থীর হাত থেকে মোবাইল সেট নিয়ে নিজেই সেলফি তোলেন। সেই মুহুর্তে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। প্রধানমন্ত্রীর তোলা সেই সেলফি মুহুর্তেই শিক্ষার্থীদের জীবনের অন্যতম সেরা স্মৃতিতে পরিণত হয়।

বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক একে আজাদ বলেন, এটি আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য এক অকল্পনীয় ও অবিস্মরণীয় মুহুর্ত। প্রধানমন্ত্রী এতো কাছে এসে কথা বলবেন, ক্রীড়াসামগ্রী উপহার দেবেন এবং নিজ হাতে সেলফি তুলবেন, এমন অভিজ্ঞতা তারা কোনো দিন ভুলবেন না। সফরের ব্যস্ততার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের জন্য কয়েক মিনিট সময় বের করে তাদের সঙ্গে মিশে যাওয়া, খেলাধুলায় উৎসাহ দেওয়া এবং আন্তরিক আচরণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন। বিস্তীর্ণ জঙ্গলে

সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরিশালের বাবুগঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন করেছেন। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীস্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়াস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি হেঁটে বিস্তীর্ণ জঙ্গলজুড়ে সেনা সদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন। মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গম ও ঘন জঙ্গলের ভেতরে সেনা সদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, চলাচল এবং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির উপযোগী বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা তাঁকে মহড়ার বিভিন্ন দিক এবং সেনা সদস্যদের কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তারা তাঁকে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি ও যুদ্ধক্ষেত্রে এর ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী সেনা সদস্যদের সাথে আন্তরিকভাবে মিশে যান। তিনি জঙ্গলের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত সেনা সদস্যদের কাছে গিয়ে তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং নিষ্ঠা ও পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করেন। একপর্যায়ে তিনি সেনা সদস্যদের সঙ্গে মাটিতে বসে কিছু সময় কাটান এবং তাঁদের প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন। মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনা সদস্যদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা খাবারও গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। কৌটার মধ্যে মোম জ্বালিয়ে তৈরি আগুনে রান্না করা সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি পরিবেশন করা হয় প্রধানমন্ত্রীকে। পরে সেনা সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে। জাতীয় সংকট মোকাবেলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারি, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

তিনি আরও বলেছেন, সেনা সদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশের মানুষের মনে সেনাবাহিনীর প্রতি বিশেষ মর্যাদা তৈরি করেছে। এই আস্থা ও মর্যাদা ধরে রাখতে পেশাদার প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি নিজে একটি সেনা পরিবারে বড় হয়েছি। তাই সেনা সদস্যদের কাছে এলে আমার ভালো লাগে এবং শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে। সেনা সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা ও তাঁদের সান্নিধ্যে সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে আমি যেন শৈশবে ফিরে যাই। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আগামীদিনে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে আরো সুনাম, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেছেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা, আধুনিকায়ন এবং সুনাম বৃদ্ধির জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সবধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক সহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। একইদিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমীতে মতবিনিময় সভা করেছেন।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram