

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে অভিযান চালিয়ে একটি অয়েল ট্যাংকারসহ ১২ হাজার ৭০০ লিটার চোরাই ডিজেল জব্দ করেছে নৌ পুলিশ। এ সময় তেল চুরির সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জব্দকৃত ডিজেল, অয়েল ট্যাংকার ও অন্যান্য আলামতের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ১৪ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা।
নৌ পুলিশ চট্টগ্রাম অঞ্চলের পুলিশ সুপার বি. এম. নুরুজ্জামান, বিপিএম-এর নির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে সদরঘাট নৌ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান-এর নেতৃত্বে শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত ২টা ৪৫ মিনিটে কর্ণফুলী নদীর চট্টগ্রাম বন্দর থানাধীন ৬ নম্বর ভেসেল পয়েন্ট জেটি সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অংশ নেন এসআই মো. মোজাম্মেল হোসেন, এসআই মুহাম্মদ আরিফুল আলম অপু এবং সঙ্গীয় ফোর্স।
অভিযানকালে ‘ওটি ইশরাত’ (এম-২৫৩৭৩) নামের একটি অয়েল ট্যাংকারে তল্লাশি চালিয়ে ১২ হাজার ৭০০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত ডিজেলের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা। তেল পরিবহনের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় ট্যাংকারে থাকা সুপারভাইজার, মাস্টার ও স্টাফসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। একই সঙ্গে তেল চুরির কাজে ব্যবহৃত ১.৫ ইঞ্চি পাইপসংযুক্ত একটি পাম্প মোটরও জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— আরিফুল ইসলাম (৩০), সাইদুল ইসলাম ওরফে ইশাদ (২২), মো. আব্দুল হালিম (৩৫), মো. নুরুল মোস্তফা (২৬), জালাল আহমদ (৬০) এবং মো. নুরুল আমিন (৫০)।
নৌ পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কর্ণফুলী নদী ও আশপাশের ঘাট এলাকায় চোরাই ডিজেল কেনাবেচা করে আসছিলেন। ঘটনার রাতে অজ্ঞাতনামা ১-২ জনের সহযোগিতায় বিভিন্ন উৎস থেকে অবৈধভাবে সংগৃহীত ডিজেল বিক্রির উদ্দেশ্যে বাংলা বাজার ঘাটের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আরিফুল ইসলাম ২০১৭ সালের জোরারগঞ্জ থানার একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এছাড়া মো. আব্দুল হালিম একজন পেশাদার অপরাধী; তার বিরুদ্ধে ফেনীর ছাগলনাইয়া থানায় দুটি ডাকাতি ও তিনটি মাদক মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় সদরঘাট নৌ থানার এসআই মো. মোজাম্মেল হোসেন বাদী হয়ে গ্রেফতার ৬ জন এবং অজ্ঞাতনামা ১-২ জনের বিরুদ্ধে সিএমপির বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নদীপথে চোরাচালান, তেল চুরি এবং অন্যান্য অবৈধ কার্যক্রম দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।
