

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাট পৌরসভার সাড়ে চার কোটি টাকার বকেয়া পৌরকর আদায় করতে ব্যতিক্রমধর্মী তিনদিনের পৌরকর মেলার আয়োজন করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। রোববার বেলা এগারোটায় বাগেরহাট পৌরসভার প্রশাসক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মেজবাহ উদ্দীন ফিতা কেটে এই মেলার উদ্বোধন করেন।
পৌরসভার নাগরিক সেবা বাড়াতে বকেয়া পৌরকর আদায় করতে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত এই কর পরিশোধ করা যাবে। আগামী ৩০ জুন এই মেলা শেষ হবে।
এদিকে, পৌরসভার নাগরিক সুবিধা বাড়াতে পৌর কর্তৃপক্ষের ব্যতিক্রমধর্মী কর মেলার আয়োজনে খুশি নাগরিকরা। পৌরকর আদায় করে পৌরবাসীর নাগরিক সুবিধা বাড়াবে কর্তৃপক্ষ সেই আশা নাগরিকদের।
পৌরসভার বাসিন্দা মাহবুবুল আলম কাজল এই প্রতিবেদককে বলেন, বকেয়া আদায়ে পৌর কর্তৃপক্ষের এই আয়োজনে আমি দারুণ খুশি হয়েছি। আমি আজ পৌরকর পরিশোধ করলাম। ১০ শতাংশ ছাড় পেয়েছি। পৌর কর্তৃপক্ষ পৌরকর আদায় করে নাগরিকদের যে নাগরিক সুবিধা রয়েছে তা দিবে তাহলে পৌরসভার নাগরিকরা সময়মত পৌরকর পরিশোধ করতে উৎসাহিত হবে।
বাগেরহাট পৌরসভার প্রশাসক মো. মেজবাহ উদ্দীন বলেন, বাগেরহাট পৌরসভার হোল্ডিং সংখ্যা প্রায় দশ হাজার। তাদের পৌরকর বকেয়া ছিল সাত কোটি ১৩ লাখ টাকা। এরমধ্যে আদায় হয়েছে ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। বকেয়া রয়েছে চার কোটি ৫৬ লাখ টাকা। বকেয়া পৌরকর আদায় করতে না পারলে পৌরসভার নাগরিকদের নাগরিক সুবিধা তা সঠিকভাবে দিতে পারব না। তাই পৌরসভাকে সচল রাখতে পৌরকর আদায় করা প্রয়োজন। ২০০৫ সাল থেকে অনেক হোল্ডিংধারীদের পৌরকর বকেয়া রয়েছে। যাদের পৌরকর বকেয়া রয়েছে তাদের আমরা নোটিশ করেছি। পুরানো যাদের পৌরসভার বকেয়া রয়েছে তাদের কর আদায়ের নীতিমালা মেনে একটি কমিটি করা রয়েছে সেখানে শুনানি করে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কর মওকুফ করা হবে। আর যারা নিয়মিত কর পরিশোধ করেন তাদেরও ১০ শতাংশ পর্যন্ত কর মওকুফের ক্ষমতা পৌর কর্তৃপক্ষের রয়েছে। পৌরবাসীর নাগরিক সুবিধা উন্নয়নের গতি বাড়াতে আমরা এই মেলার আয়োজন করেছি।
