

নুরুল ইসলাম আসাদ, উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি: শিশুদের অপুষ্টিজনিত জটিলতা, রাতকানা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুস্থ শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত করতে বরিশাল জেলায় শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬।
রবিবার (২৮ জুন) সকালে বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বরিশাল জেলার সিভিল সার্জন ডা. মনজুর ই এলাহী। উদ্বোধনের পর জেলার সব উপজেলায় একযোগে ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম শুরু হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিভিল সার্জন ডা. মনজুর ই এলাহী বলেন, এবারের ক্যাম্পেইনের আওতায় বরিশাল জেলার ১০টি উপজেলার ৮৭টি ইউনিয়নে মোট ৩ লাখ ২ হাজার ৮৪৬ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ২ হাজার ৯০৭টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবীরা দায়িত্ব পালন করছেন। পুরো কার্যক্রম সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী মনিটরিং কমিটি মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক তদারকি করছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, ভিটামিন ‘এ’ একটি শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি সংরক্ষণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ক্যাপসুল শিশুদের রাতকানা ও ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধের পাশাপাশি হাম, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের জটিলতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই নির্ধারিত বয়সের প্রতিটি শিশুকে এই ক্যাম্পেইনের আওতায় এনে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য তিনি অভিভাবকদের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এই ক্যাম্পেইনে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে নীল রঙের (১ লক্ষ আইইউ) এবং ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে লাল রঙের (২ লক্ষ আইইউ) উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্রে শিশুদের বয়স যাচাই করে স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরাপদভাবে ক্যাপসুল খাওয়ানোর পাশাপাশি অভিভাবকদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শও প্রদান করছেন।
উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১২৬টি অস্থায়ী এবং ১টি স্থায়ী কেন্দ্রের মাধ্যমে ২৮ হাজার ৮০০-এরও বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত ক্যাপসুল, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত থাকায় সকাল থেকেই অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কোনো যোগ্য শিশু যাতে এই সেবা থেকে বাদ না পড়ে, সেজন্য মাঠপর্যায়ে বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আলী সুজা, যিনি জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধিত্ব করেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহবুব মোর্শেদ, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. শওকত আলী, আরএমও ডা. নাজমুস সকিব, সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহানাজ শিমুল, সহকারী অধ্যাপক ডা. মাসুম বিল্লাহ, জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. অনামিকা ভট্টাচার্য, জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সব্যসাচী তালুকদার, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. নাদিরা পারভিন, উপজেলা হেলথ ইন্সপেক্টর আব্দুল লতিফ মোল্লাসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন দেশের শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের অন্যতম সফল জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি। একটি মাত্র ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল একটি শিশুকে অন্ধত্বের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বরিশাল জেলার প্রতিটি অভিভাবকের উচিত নির্ধারিত বয়সের শিশুদের নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে এই সেবা নিশ্চিত করা। স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে, সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মাধ্যমে এবারের জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফলভাবে সম্পন্ন হবে।
