ঢাকা
২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
দুপুর ১:৫৬
logo
প্রকাশিত : জুন ২৪, ২০২৬

দুই মহাতারকার রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলায় বিশ্বকাপে উন্মাদনা

চার বছর আগে কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনাল থেকেই শুরু হয়েছিল আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত দ্বৈরথগুলোর একটি—লিওনেল মেসি বনাম কিলিয়ান এমবাপে। সেই রাত শুধু আর্জেন্টিনার ৩৬ বছরের বিশ্বকাপ খরা কাটানোর ইতিহাস নয়, বরং দুই প্রজন্মের দুই মহাতারকার প্রতিদ্বন্দ্বিতারও সূচনা।

১৮ ডিসেম্বর ২০২২, বিশ্বকাপ ফাইনালে ৩-৩ সমতার পর টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে আছে মেসি ও এমবাপের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের জন্য। মেসি করেন দুটি গোল, আর এমবাপে একাই করেন হ্যাটট্রিক। সেই ম্যাচেই বিশ্ব ফুটবল বুঝে যায়, এই লড়াই কেবল একটি ফাইনাল নয়—এটি একটি দীর্ঘ প্রতিদ্বন্দ্বিতার শুরু।

ফাইনালের আগে বিশ্বকাপ ইতিহাসে মেসির গোল ছিল ১১, আর এমবাপে ছিলেন তুলনামূলকভাবে নতুন নাম। কিন্তু সেই ম্যাচের পর মেসি পৌঁছে যান ১৩ গোলে, জুস্ত ফঁতেনের পাশে জায়গা করে নেন ইতিহাসের তালিকায়। অন্যদিকে এমবাপে ছুঁয়ে ফেলেন কিংবদন্তি পেলের পাশে অবস্থান।

তখন থেকেই শুরু হয় নতুন এক প্রতিযোগিতা—কে কত দূর এগোতে পারেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে।

চার বছর পর উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে এসে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এই দুই তারকা। বয়স ৩৯ ছুঁইছুঁই হলেও মেসি এখনো দাপট ধরে রেখেছেন, আর ২৭ বছর বয়সী এমবাপে এগিয়ে চলেছেন নিজের গতিতে। এবারের আসরেও গোলের দৌড়ে দুজনই রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ জয়ের ম্যাচে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করেন মেসি। এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুটি গোল করে মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেন তিনি। তার মোট গোল এখন ১৮।

অন্যদিকে এমবাপে সেনেগাল ও ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচে চারটি গোল করে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন। এখন তিনি ক্লোসার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন ১৬ গোল নিয়ে, মেসির ঠিক পেছনে।

রেকর্ড নিয়ে মেসি বরাবরই নির্লিপ্ত। তিনি জানান, ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, “আমি জানি না রেকর্ডের বিষয়ে। আমি শুধু এই মুহূর্তটা উপভোগ করছি এবং সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপন করছি। আমরা কতদূর যেতে পারি সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।”

অন্যদিকে এমবাপে মেসির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই নিজের লক্ষ্য স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, “মেসি সবসময় গোল করে। আমার লক্ষ্য দলকে সাহায্য করা এবং যতটা সম্ভব গোল করা।”

পিএসজিতে একসময় সতীর্থ থাকা এই দুই তারকার সম্পর্ক প্রতিদ্বন্দ্বিতার হলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধায় ভরপুর। রেকর্ডের লড়াই যতই তীব্র হোক, দুজনই একে অন্যের প্রতি প্রশংসা প্রকাশে পিছপা হন না।

বিশ্ব ফুটবলে এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন—এই দ্বৈরথ কোথায় গিয়ে থামবে? মেসি ইতিহাস লিখছেন, আর এমবাপে যেন সেই ইতিহাস নতুন করে লিখতে প্রস্তুত হচ্ছেন।

আসন্ন ম্যাচগুলোতে আবারও আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স মুখোমুখি হলে, এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও একবার বিশ্ব ফুটবলকে নতুন নাটকীয়তায় ভরিয়ে তুলতে পারে।

logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram