

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারীতে একটি নবনির্মিত ব্রিজে ওঠার দুটি সংযোগ সড়কের তিন স্থান ধসে গিয়ে জনভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা সদর হতে পাত্রখাতা মিনাবাজারগামী সড়কের আকালুরঘাট ব্রিজের সংযোগ সড়ক ধসে যাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিনিয়ত চলাচল করছে পাত্রখাতা মিনাবাজার এলাকার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। স্থানীয়রা দ্রুত সংযোগ সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের পাত্রখাতা মিনাবাজার এলাকার সাথে জোড়গাছ বাজার ও উপজেলা সদরের যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য তিস্তা খালের উপর আকালুরঘাট এলাকায় নতুন একটি ব্রীজ নির্মাণ করেন এলজিইডি। ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে ৪ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এলজিইডি বিভাগের তত্বাবধানে যৌথভাবে কাজটি করেন মের্সাস লুফা-জেডএইচডি (জেভি)সহ দুটি প্রতিষ্ঠান। নির্মাণের সময় ৬৪ মিটার ওই ব্রীজের সাথে ধরা হয় দুই রাস্তার এপ্রোচ (সংযোগ সড়ক) এইচবিবি। সংযোগ সড়ক নির্মাণের পর কয়েক দফা রাস্তাটিতে ধস দেখা দিলে তা দায়সাড়াভাবে মেরামত করা হয়। সম্প্রতি ঘন বৃষ্টিতে রাস্তাটি ধসে চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে শুক্রবার দেখা যায়, ব্রিজটির দুটি সংযোগ সড়কে অন্তত তিনটি জায়গায় মাটি ধসে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পায়ে হাটা মানুষ ছাড়া কোন যানবাহন সে রাস্তায় চলাচল করতে পারছে না। এসময় স্থানীয়রা বলেন, সংযোগ সড়ক নির্মাণের সময় দায়সাড়াভাবে কাজ করায় বার বার এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এখানে রাস্তার নিচে গাইড ওয়াল এবং পানি নামার জন্য ড্রেন করা হলে সড়কে ধস দেখা দিতো না এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতো না। ত্রিমুখী এই সড়কের দুটি স্থানে ধসের কারনে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষজন চালচল করলেও সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় আব্দুল কাদের, আহেদুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম, রবিউল আলম ও বাবু মিয়াসহ অনেকে বলেন, এই সড়ক দিয়ে পাত্রখাতা, মিনাবাজার, মন্ডলেরহাট, কাশিমবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ উপজেলা সদরসহ জোড়গাছ ও থানাহাট বাজারে চলাচল করে। তারা আরো জানান, সড়ক ধসে যাওয়ায় গর্ত সৃষ্টি হয়ে মৃত্যুকূপে পরিণত হওয়ায় দিন দিন ঝুঁকি বাড়ছে, আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই।
অটো চালক রহিম মিয়া জানান, জীবিকার তাগিতে এই সড়কে আমাদের অটো চালাতে হয় কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই অটো চালাচ্ছিলাম, কিন্তু আর পারছি না।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ জুলফিকার আলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
