

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় প্রধান শিক্ষক সোমেন্দ্রনাথ হাজেরার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি উপজেলার ২৩নং নবগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এ ঘটনায় সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে শিশু শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকের অফিস ঘেরাও করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি পালিয়ে যান। এমন ঘটনায় এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, অভিভাবক মহল প্রধান শিক্ষককে না পেয়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে অফিস ঘেরাও করে আছে। শুধু অপেক্ষার প্রহর গুনছেন কখন পাওয়া যাবে লম্পট শিক্ষককে।
এ ব্যাপারে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী ফাতেমা তোজ তোহার মা নাহিদা খাতুন বলেন, দীর্ঘদিন থেকে শিশু শিক্ষার্থীদের সাথে তিনি যৌন হয়রানির মত কাজ করে যাচ্ছেন। আমি এর উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
৩য় শ্রেণীর ছাত্রীর মা মমেনা আক্তার বলেন, তিনি শুধু যৌন নির্যাতন বা নিপীড়ন করে ক্ষান্ত নন, মেয়েদের কার শরীর কি রকম সেটিও হাত দিয়ে দেখতেন। আর বলতেন আমি তোমাদের বন্ধুর মত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থীর মা বলেন, জোর করে আমার মেয়েকে জড়িয়ে ধরেছে। এ কথা আমাকে জানায়নি। ভয় পেয়ে আমার মেয়ের গায়ে জ্বর আসছে। প্রতিষ্ঠান ঘেরাও'র খবর পেয়ে আমার মেয়ে বলেন, আমার সাথে অনেকদিন ধরে এরকম কাজ করে আসছেন। স্যারের এরকম কর্মকান্ডে ভয় পেয়ে মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে আমার মেয়েকে রাজশাহীতে চিকিৎসা নিচ্ছি। এর উপযুক্ত শাস্তি চাই।
তিনি আরো জানান, প্রতিনিয়ত অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে ইচ্ছেমত যা খুশি তাই করতেন। এমনকি প্রাইভেটে শিক্ষার্থীদের সাথে একই আচরণ করতেন তিনি। প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের নামে ছাত্রীদের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিতেন। এরপর তিনি বলতেন আমি তোমাদের বন্ধু, পকেটে টাকা এনেছো। এমন মন্তব্য করে বুক পকেটে হাত দিতেন। এমনকি খেলাধুলার সময় তিনি মেয়েদের ড্রেস নিজে পরাইয়া দিতেন। তিনি ছাত্রীদের পরম বন্ধুর নামে প্রতিনিয়ত ছাত্রীদের শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিতেন। সুযোগ পেলেই জড়িয়ে ধরতেন ছাত্রীদের। এমন লীলাকীর্তন ও কর্মযজ্ঞ প্রতিনিয়ত তিনি চালিয়ে যেতেন।
এর উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক, সচেতন মহল, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সকল শ্রেণী-পেশার মানুষজন।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, এ বিষয়ে অভিভাবকের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি তদন্তের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
