

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষে উঠেছে আর্সেনাল। আর সেই পুনর্জাগরণের নায়ক মিকেল আর্তেতা। একসময় পেপ গার্দিওলার সহকারী হিসেবে কাজ করা এই স্প্যানিয়ার্ড এবার নিজের গুরুকেই পেছনে ফেলে জিতেছেন প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা।
২০০৩/০৪ মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ইতিহাস গড়েছিলো গানাররা। আর্সেন ওয়েঙ্গারের অধীনে সেই ঐতিহাসিক সিজনে পুরো ৩৮ ম্যাচের একটিও হারেনি দলটি। এই অসাধারণ অর্জনের কারণেই দলটি পেয়েছিল 'দ্য ইনভিন্সিবল' উপাধি। এছাড়াও সেই দলে ছিলেন ফরাসি ম্যাজিকম্যান থিয়েরি অঁরি, প্যাট্রিক ভিয়েরা- ক্যাম্পবেল-অ্যাশলি কোলের মতো তারকারা।
অবশেষে, ২২ বছর পর, এই প্রথম, লিগ জয়ের স্বাদ পেল আর্সেনাল। ২০১৯ সালে, কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই ক্লাবটিকে নতুন করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছিলেন আর্তেতা। যদিও তখন তার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না প্রধান কোচ হিসেবে।
তবে, শেখার সুযোগটা ছিল সেরাদের একজনের কাছ থেকে। ম্যানচেস্টার সিটিতে পেপ গার্দিওলার সহকারী হিসেবে কাজ করার সময়ই আধুনিক ফুটবলের কৌশল ও দল গঠনের নানা দিক রপ্ত করেন তিনি।
তবু আর্সেনালকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পুরোপুরি গার্দিওলার পথ অনুসরণ করেননি আর্তেতা। বরং তার দলে বেশি দেখা গেছে দৃঢ় রক্ষণভাগ, সেট-পিস নির্ভর পরিকল্পনা এবং দলগত শৃঙ্খলা, যা অনেকটাই সাবেক কোচ ডেভিড ময়েসের দর্শনের সঙ্গে মিলে যায়।
দায়িত্ব নেয়ার পর, দল থেকে একাধিক বড় তারকাকে বিদায় করেন আর্তেতা। পিয়েরে-এমেরিক ওবামেয়াং ও মেসুত ওজিলের মতো খেলোয়াড়দের সরিয়ে দলীয় ভারসাম্য ও শৃঙ্খলাকেই বেশি গুরুত্ব দেন তিনি।
শুরুর সময়টা অবশ্য সহজ ছিল না। প্রথম মৌসুমে আর্সেনাল লিগ শেষ করে অষ্টম স্থানে, যা ছিল ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বাজে ফলাফল। এরপরও সমালোচনা পিছু ছাড়েনি। টানা তিনবার রানার্সআপ হওয়ার পর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, আর্তেতা আদৌ দলকে শিরোপা জেতাতে পারবেন কি না।
চলতি মৌসুমেও মার্চ ও এপ্রিলে টানা চার ঘরোয়া ম্যাচে হেরে এফএ কাপ ও লিগ কাপ থেকে বিদায় নেয় আর্সেনাল। তখন অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন শিরোপার দৌড় থেকেও ছিটকে গেছে দলটি।
তবে শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়ায় গানাররা। গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটিকে পেছনে ফেলে জিতে নেয় প্রিমিয়ার লিগ। এখন তাদের সামনে আরও বড় সম্ভাবনা, কারণ, আগামী ৩০ মে, বুদাপেস্টে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে পিএসজিকে হারাতে পারলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইউরোপসেরা হবে আর্সেনাল।

