

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দুই বছরের শিশু আয়শা সিদ্দিকা আশুরা হত্যাকান্ডের সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত হত্যাকান্ডের রহস্য উম্মোচিত হয়নি। হত্যাকান্ডের রহস্য উম্মোচন ও ঘাতকদের গ্রেফতার করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও অবরোধ করেছে এলাকাবাসী। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলা পরিষদ এবং থানার সামনে এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন তারা।‘আয়শা হত্যাকারীকে গ্রেফতার করো’, ‘তুমি কে আমি কে-আয়শা-আয়শা’, ‘আমার বোন কবরে, খুনি কেন বাহিরে’-এরকম বিভিন্ন শ্লোগানে শ্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠে চিলমারী।
সোমবার সকালে উপজেলার মাচাবান্ধা এলাকার কয়েক হাজার নারী-পুরুষ বিভিন্ন শ্লোগান লেখা সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লাকার্ড হাতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। শিশু আয়শার হত্যাকারীদের বিচারের দাবি নিয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। সেখানে ক্ষোভ ও বেদনায় ভেঙ্গে পড়া এলাকাবাসী দ্রুত খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। পরে বিক্ষোভকারীরা একটি স্মারকলিপি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.মাহমুদুল হাসানের কাছে প্রদান করে চিলমারী মডেল থানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় উপস্থিত অনেকেই আয়শার নির্মম হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রকৃত খুনিরা ধরা পড়েনি, ফলে জনমনে ক্ষোভ ক্রমই বাড়ছে।
প্রায় আধাঘণ্টা থানার সামনে অপেক্ষা করেও থানা পুলিশের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা না দেখে বিক্ষুব্ধ জনতা উপজেলা পরিষদের সামনে সড়ক অবরোধ করে। এতে গুরুত্বপূর্ণ কেসি সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন। তার আশ্বাসে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় এবং পরে অবরোধ তুলে নেয় বিক্ষোভকারীরা।
অবরোধের সময় এলাকাবাসীর পক্ষে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল মতিন সরকার শিরিনসহ অনেকে। বক্তারা বলেন, ‘একটি নিষ্পাপ শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে-এটি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য লজ্জার বিষয়। খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো গড়িমসি সহ্য করা হবে না। বিচার না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে জানান তারা।’
নিহত আয়শার পিতা মো.আলমগীর হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছোট মেয়েটাকে নির্মমভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অথচ সন্দেহভাজন আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। আমি আমার সন্তানের হত্যার বিচার চাই। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, দ্রুত খুনিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করুন।’
এ বিষয়ে চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নয়ন কুমার বলেন, ‘পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে, ঘটনার নেপথ্যের কারণ ও প্রকৃত আসামিদের ধরতে আমাদের টিম কাজ করছে।’
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে বাড়ির পাশে খেলছিল উপজেলার মাচাবান্ধা সাহাপাড়া এলাকার দুই বছর বয়সী শিশু আয়শা সিদ্দিকা আশুরা। হঠাৎই নিখোঁজ হয় সে। দিনভর আশপাশের সব এলাকায় তল্লাশি করেন স্বজনরা। কোথাও মেলেনি শিশুটিকে। কিন্তু রাতে বাড়ির পাশেই পাওয়া যায় আয়শার চোখ উপড়ে নেয়া নিথর দেহ।

