

মোঃ আনোয়ার হোসেন, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল আওয়াল রবি (আওয়ামী সমর্থক) ও ওই ইউনিয়নের সাবেক যুবদলের সদস্য সচিব মোহাম্মদ কাউছার আলম এর মধ্যে বাজারে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পূর্ব বিরোধ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরে বাঙ্গরা বাজারে একটি দোকান ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (২১/০৪) উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়।
এতে প্রায় দশজন আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, চেয়ারম্যান রবিউল আউয়াল রবি, তার ভাই শফিকুল ইসলাম, তুহিন ও রুবেল, বাঙ্গরা বাজার কমিটির সভাপতি শামীম, তার ছেলে শান্ত, মিজানুর রহমান মজনু। আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে পাঠানো হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদরে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে অবরুদ্ধ চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে ওসি সাংবাদিকদের জানান। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জিনদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল আউয়াল রবি, তার দুই ভাই রুবেল মিয়া ও পলাশ মিয়া।
জানা গেছে, বাঙ্গরা বাজারে একখন্ড খালি জাগায় একটি দোকানঘর নির্মাণ করতে যান চেয়ারম্যান রবিউল আওয়াল এর ভাই শফিকুল ইসলাম ও তার লোকজন। ঘর নির্মাণের এ খবর পেয়ে যুবদলের সাবেক নেতা কাউছার গ্রুপের বাজার কমিটির সভাপতি শামিম তার লোকজন নিয়ে বাধা প্রদান করে। তর্ক বির্তকের এক পর্যায় সংঘর্ষ ও উত্তেজিত শামীম ও তার অনুসারীরা ‘মব’ সৃষ্টি করে চেয়ারম্যান রবিউল আউয়াল রবি ও তার ভাইদের মারধর করে একটি স্থানে অবরুদ্ধ করে ফেলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে পুলিশ কৌশলে অবরুদ্ধ চেয়ারম্যান ও তার ভাইকে উদ্ধার করে নিরাপত্তা হেফাজতে থানায় নিয়ে আসে।
এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান রবিউল আওয়াল রবি বলেন, আমি কোন অন্যায় করিনি, আমার লীজকৃত জায়গায় আমি দোকান নির্মাণ করছিলাম। তারা সরকার দলের ক্ষমতার দাপটে মব সৃষ্টি করে আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখে।
এ ব্যাপারে ওই যুবদল নেতা কাউছার আলমকে বার বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোন জবাব দেননি।
নবীনগর থানার অফিসার ইনর্চাজ রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। ঘটনার সাথে জড়িত ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বাঙ্গরা বাজার ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

