

এম. পলাশ শরীফ, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পতিত জমিতে মুগ ডাল চাষ করে স্বল্প খরচে অধিক লাভবানে স্বপ্ন বুনছেন চাষিরা। আর মাত্র ৩ সপ্তাহ পরে ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। ভালো ফলন হওয়ায় বিঘা প্রতি ৫/৬ মন মুগ ডাল পাবেন বলে আশাবাদী কৃষক।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের পূর্ব চর হোগলাবুনিয়া গ্রামে প্রথমবারে মত এ বছরই নতুন করে পতিত ১১ বিঘা জমিতে ১০ জন চাষি শীতকালীন এ মুগ ডাল চাষ করে ফালো ফলন ফলিয়ে অনেক খুশি।
এক সময়ে এ জমিটুকুতে ভরসাই ছিলো শুধুমাত্র দেশী আমন ধান। পরবর্তীতে সেই পতিত অবস্থায় পড়ে থাকতো। এবছর কৃষি অফিসের প্রণোদনা পেয়ে মুগ ডাল চাষ করে সারা ফেলেছেন। চাষিরা বলছেন, বিঘা প্রতি জমিতে সেচ, সার, ওষুধ, শ্রমিক, মজুরি ৫ হাজার টাকা ব্যয় মিটিয়ে ২ মাসে ২০ হাজার টাকা আয় করছেন। সংসারের খাবার চাহিদা ভেজালমুক্ত ডাল খাচ্ছেন।
পূর্ব চরহোগলাবুনিয়া গ্রামের মোস্তফা হাওলাদার, কামাল হাওলাদার, নাসির শেখ, দেলোয়ার হোসেন রানা, নূরুল ইসলাম বক্কার, মেহেদী হাসান, খলিল শেখ, জসিম হাওলাদার, হাকিম শেখসহ একাধিক চাষি বলেন, পূর্বে বুঝতে পারলে এ রকম জমি ফেলে রাখতাম না। কৃষি অফিসের পরামর্শ ও প্রনোদনা প্রত্যকে ৫ কেজি বীজ, ১৫ কেজি সার ১১ জন চাষি আমরা পেয়েছি। ফলন খুবই ভালো হয়েছে। আশা করছি বিঘায় ৬ মন ২৫০ কেজি করে ঘরে তুলতে পারবো। যার বাজার মূল্যে রয়েছে পাইকারি ১শ’ টাকা কেজি করে ৪ হাজার টাকা মন এখন বাজারে বিক্রি করতে পারব।
এদিকে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, শীতকালিন মুগ ডাল এ উপজেলায় ২৭৫ হেক্টর জমিতে চাষ করেছেন কৃষক। বিশেষ করে হোগলাবুনিয়া, বলইবুনিয়া, চিংড়াখালী, পুটিখালী, বনগ্রামে বেশি চাষাবাদ হয়েছে। অন্যসব ইউনিয়নে তুলনায় কম হলেও চাষাবাদ হয়েছে।
এ বিষয়ে হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, শীতকালিন মুগ ডাল চাষ এবারে এ ইউনিয়নে ৪০ হেক্টর জমিতে প্রথম চাষাবাদ করেছে কৃষক। এসব চাষিদের কৃষি অধিদপ্তরের মাধ্যমে একাধিক ফসল উৎপাদনে পরামর্শ ও প্রনোদনা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। পতিত অবস্থায় পড়ে থাকতো জমি, সেখানে অধিক লাভবানের মুখ দেখছেন চাষিরা। আর এটি সম্ভব হয়েছে তাদের আগ্রহ থাকায় আজ মুগ ডাল ভালো ফলন হওয়ার সম্ভব হয়েছে। আশা করছি আগামী বছর এ ভালো ফলন দেখে মুগ ডাল চাষে আগ্রহ বাড়বে।
এ সর্ম্পকে মোরেলগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী এ উপজেলায় ৩ ফসলী রুপান্তরে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ চলছে। যার প্রেক্ষিতে শীতকালীন ২৭৫ হেক্টর জমিতে মুগ চাষ ভালো ফলন পেয়েছেন কৃষক। আশা করি আগামী বছরগুলোতে আরও এ চাষে ঝুকবেন চাষিরা।

