

মতিয়ার রহমান মধু, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: কাঁচা অবস্থায় দাম বেশি, পাকলে কম—এই বাস্তবতায় বেশি লাভের আশায় সাতক্ষীরার বাজারে এখন হরদম বিক্রি হচ্ছে পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ কাঁচা আম। জেলার চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন শত মণ কাঁচা আম যাচ্ছে রাজধানী ঢাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এসব আম পাকলে তেমন দাম পাওয়া যায় না, তবে কাঁচা আমের চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। কাঁচা আম দিয়ে মূলত বিভিন্ন কোম্পানি আচার, জেলি ও জুস তৈরি করে। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর বাজারে আম কিছুটা কম আসছে। চাষিরা বলছেন, এ বছর গাছে আমের উৎপাদন কম হয়েছে।
পুষ্টিবিদদের মতে, কাঁচা আমে রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। বিশেষ করে ওজন কমাতে, বমি ভাব দূর করতে, ডায়াবেটিস প্রতিরোধে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং চুল ও ত্বক উজ্জ্বল রাখতে এটি সহায়ক। এছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন ই এবং একাধিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা শ্বেত রক্তকণিকার কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এদিকে তীব্র তাবদাহে গোটা জেলার মানুষ যেমন বিপর্যস্ত, তেমনি ঝড়-বৃষ্টি ও প্রচণ্ড গরমে আম ঝরে পড়ার পরিমাণও বাড়ছে। আম চাষিরা জানান, কালবৈশাখীসহ উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ের আশঙ্কা বেশি। তাই ক্ষতির মুখে না পড়ে তারা আগাম কাঁচা আম বিক্রি করে কিছুটা লাভ তুলে নিচ্ছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, মাটি, বাতাস ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত কয়েক বছর ধরে জেলায় হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রাপালি, মল্লিকা, গোপালভোগ, গাবিন্দভোগ, বম্বাই ও গোপালখাসসহ বিভিন্ন জাতের আমের ভালো উৎপাদন হচ্ছে। এবারও বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম উৎপাদন এবং রপ্তানির জন্য চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ইতালি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, জার্মানি ও ইংল্যান্ডে সাতক্ষীরার আম রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সুলতানপুর বড় বাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা কাঁচা আম কিনছেন। যেসব আম কাঁচায় টক এবং পাকলেও টক থাকে, সেসব আম বাজারজাত করছেন চাষিরা। এ কারণে এসব আমের দামও বেশি পাওয়া যাচ্ছে। সুলতানপুর বড় বাজারে কাঁচা টক আম মণপ্রতি ১,০০০ থেকে ২,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আম চাষি আব্দুল হাকিম গাজী ও লিয়াকত হাসান জানান, “যেসব আম কাঁচায় টক এবং পাকলেও টক থাকে, সেসব আম আমরা আগাম পাড়া শুরু করেছি। এসব আম বিক্রি করে আমরা বেশ লাভবান হচ্ছি।”সাতক্ষীরা শহরের বড় বাজারের কাঁচা ও পাকা মাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রজব আলী খাঁ বলেন, “এখন বাজারে আসছে কাঁচা টক আম। এই আম পাকা অবস্থায় খাওয়ার উপযোগী নয়, টক লাগে। বর্তমানে কাঁচা আম ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। জেলায় রয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার আমবাগান এবং ১৩ হাজার আমচাষি। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পুষ্টিবিদরা জানান, প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা আমে প্রায় ৪৪ ক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। এছাড়া এতে রয়েছে ৫৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি ও ২৭ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম। তবে অতিরিক্ত কাঁচা আম খেলে ডায়রিয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে।

