

ফারহান ইসলাম, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেল না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন যানবাহন চালক ও কৃষকরা। কোথাও মিলছে পেট্রোল কোথাও মিলছে অকটেন, বিপাকে ক্রেতা। অতিরিক্ত চাহিদার কারণে উপজেলার বেশিরভাগ পাম্পেই তেল মিলছে না। ফলে তেল নিতে এসে অনেক চালকই খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাম্পগুলোতে পুলিশের কড়া নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, তেল সংগ্রহ করতে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি। কোথাও কোথাও উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে যেসব পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেও একেকটি মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ২ লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না।
জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণে তেল না পাওয়ার আতঙ্কে অনেকেই আগেভাগে তেল সংগ্রহ করতে পাম্পে ভিড় করছেন।
এদিকে জ্বালানি তেলের সংকটে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরাও। সেচ পাম্প ও কৃষি যন্ত্রে ব্যবহারের জন্য তেল না পাওয়ায় অনেক কৃষক সময়মতো জমিতে চাষাবাদ করতে পারছেন না। এতে নির্ধারিত সময়ে ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
উপজেলার একাধিক কৃষক বলেন, ডিজেল না পাওয়ায় সেচ পাম্প চালানো যাচ্ছে না। জমিতে চাষাবাদ করতে দেরি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সময়মতো ফসল ফলানো কঠিন হয়ে পড়বে।
তেল নিতে আসা কয়েকজন ক্রেতা বলেন, তেলের দাম এখনো না বাড়লেও পাম্পগুলোতে সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে। অনেক পাম্পে আবার ২ লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না।
পাম্প সংশ্লিষ্ট বিক্রেতা কনক ও হাবিবুর রহমান জানান, তেলের পাম্পে সরবরাহ কার্যত বন্ধ রয়েছে। ডিপোতে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল না পাওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমানে পাম্পে প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার লিটার তেল মজুত আছে, যা মূলত সরকারি যানবাহনের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
তারা আরও বলেন, ডিপো থেকে তেল সরবরাহ পাওয়া গেলে আগের মতো স্বাভাবিকভাবে বিক্রি শুরু করা হবে। মজুত সীমিত থাকায় সবার মধ্যে সমানভাবে সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রতিটি মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ২ লিটার করে তেল দেওয়া হচ্ছে। তবে নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়া হচ্ছে না।

