

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: বাউফলের সদর ইউনিয়নের ভূবন সাহার কাচারী এলাকায় শ্রীশ্রী কালী-শীতলামাতা মন্দিরে কালী প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে ওই ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় সনাতন ধর্মবলম্বীদের মধ্যে আতংকের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাউফল সদর ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের ভূবন সাহা কাচারী এলাকায় বাউফল-বগা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে পাঁচ শতাংশ জমির ওপর ১০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬ ফুট প্রস্থের উপর টিনের ছাওনি দিয়ে দুই কক্ষ বিশিষ্ট শ্রীশ্রী কালী-শীতলামাতা মন্দির রয়েছে। মন্দিরটির পশ্চিম পাশের কক্ষে কালিমাতা প্রতিমা ও পূর্ব পাশের কক্ষে শীতলা মাতার প্রতিমা রয়েছে। ঘটনাস্থলে দেখা গেছে কালী প্রতিমার মাথা ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
স্থানীয় চায়ের দোকানি সবুজ শরীফ জানান, তিনি রাত সাড়ে ৯টার দিকে পানি আনার জন্য মন্দিরের পাশে পুকুরে যায়। ওই সময় টর্চের আলোতে তিনি কালী প্রতিমার ভাঙা মাথা মন্দিরের সামনে পরে থাকতে দেখে মন্দির কমিটির সভাপতি অনিল চন্দ্র গনপতিকে জানান। প্রতিমা ভাঙার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার লোকজন ভীর করতে থাকেন।
সভাপতি অনিল চন্দ্র গনপতি বলেন, ঘটনা জেনে সাথে সাথেই তিনি মন্দিরে এসে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিবেন বলেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আশ্বস্ত করেন। তবে ঘটনার পর থেকে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে অজানা আতংক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের দাবি, শতবর্ষী এই মন্দিরটি ঘিরে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে। কোনো ধরণের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার ঘটনা আগে কখোনো ঘটেনি। তাদের ধারণা, বহিরাগত কিছু দুর্বৃত্ত পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়ে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছেন।
মন্দির কমিটির সভাপতি বলেন, রাতেই অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে বাউফল থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আমার এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাই।
বাউফল উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অতুল চন্দ্র পাল জানান, রক্ষিত মন্দির ব্যতিত অরক্ষিত মন্দিরে প্রতিমা না রাখাই ভাল। এ ধরণের ঘটনায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হওয়ার আশংকা থাকে। পুলিশ তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছি।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। একটি কালীমূর্তি ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় সভাপতি অনিল চন্দ্র গনপতি বাদি হয়ে রাতেই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন, তদন্ত চলছে।
