

শাহজাহান কবির, আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে গভীর রাতে ওয়ারেন্টভুক্ত এক নারী আসামি গ্রেপ্তার করতে গিয়ে স্বজনদের হামলার শিকার হয়ে অন্তত পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে পাঁচজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এর আগে বুধবার দিবাগত রাত একটার দিকে উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের রসুলপুর এলাকায় পুলিশের উপর এ হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বুধবার রাত একটার দিকে রসুলপুর গ্রামের জুলহাস মিয়ার স্ত্রী সিআর মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আসমা বেগম (৪৫) কে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে আড়াইহ্জার থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। এসময় আসামিকে আটক করে থানার উদ্দ্যেশে রওনা হলে আসামি আসমা আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বজনরা আসমাকে মেরে ফেলেছে বলে চিৎকার করতে থাকে। তাদের আর্তচিৎকার শুনে স্বজন ও আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে পুলিশকে ঘেরাও করে। এসময় পুলিশের সাথে বাক বিতন্ডার এত পর্যায়ে পুলিশকে মারধর করে। আসামি আসমা আক্তার এই সুযোগে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। প্রায় এক ঘন্টা অবরোধ করার পর খবর পেয়ে থানা থেকে অতিররিক্ত পুলিশ এসে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে। হামলায় পুলিশ সদস্য এসআই অজিত চন্দ্র বর্মন, এএসআই আরিফ হোসেন, এএসআই ফারুক, এএসআই শরীফুল ইসলাম শরীফ, এএসআই সাইফুল ইসলাম ও এএসআই নিজাম উদ্দিন আহত হন। পরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
আড়াইহাজার থানার ওসি (তদন্ত) রিপন কুমার সরকার বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আসমাকে আটক করার পর তিনি অসুস্থতার ভান করে পড়ে যায়। ঘটনার একপর্যায়ে আসামি আসমাকে তার স্বজনরা পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশের উপর হামলা করে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। আহত হয় ছয় পুলিশ সদস্য। এ ঘটনায় পাঁচজনকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে এসআই অজিত চন্দ্র বর্মন বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েয়ের পর আটক শিমুল মিয়া, নীরব হোসেন, নারগিস আক্তার, নাসরিন আক্তার ও রোকসানা বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদেরকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।

