

সীমান্ত হেলাল, মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি: ভোলা জেলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরার মূল ভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন চরাঞ্চলে বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। মেঘনায় সামান্য জোয়ার হলেই প্লাবিত হচ্ছে চরগুলেো। জলোচ্ছ্বাস বা ঘূর্ণিঝড় হলে যে কোন সময় ঘটে যেতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এবং জোয়ারের পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করছে প্রতিনিয়ত।
এছাড়া ৮০'র দশকে মনপুরা দ্বীপের মূল ভূখন্ড রক্ষায় চারদিকে ৭৭.৫৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। মেঘনা নদীর প্রবল গ্রাসে অর্ধেকেরও বেশি বিলীন হয়ে যাওয়ায় নতুন করে ৫০ কিলোমিটার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মনপুরার উত্তরে বিচ্ছিন্ন কলাতলির চরে বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। মেঘনার জোয়ার সামান্য বৃদ্ধি পেলেই পুরো চর প্লাবিত হয়ে মানুষ পানিবন্ধি হয়ে পড়ছে। এছাড়াও কাজীর চর, ঢাল চরে নেই কোন বেড়িবাঁধ। এই দুই চরে বসবাস করছেন অন্তত ১০ হাজার মানুষ।
এদিকে পশ্চিমে বিচ্ছিন্ন শহীদ সামছুদ্দিন চর, চর নজরুল, পূর্বে বদনার চর, লালচরে নেই কোন বেড়িবাঁধ। তাছাড়া দক্ষিণে সাগর মোহনায় চর নিজামে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষ বসবাস করছে।
এসব চরে বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ অরক্ষিত অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। সামান্য জোয়ারেই প্লাবিত হয়ে পানিবন্ধি হয়ে পড়ছে এসব চরের বাসিন্দারা।
এ ব্যাপারে উপজেলার কলাতলি চরের বাসিন্দা মিজান, সালাম, আল আমীন, সাদ্দাম জানান, এই চরটি নবগঠিত ইউনিয়ন পরিষদে রুপান্তরিত হলেও এখন পর্যন্ত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। চারদিকে কোনপ্রকার বেড়িবাঁধ না থাকায় চরটি সামান্য জোয়ার হলেই ডুবে যায়। এতে চরের বাসিন্দারা বেশিরভাগ সময়ই পানিবন্ধি থাকতে হয়।
বঙ্গোপসাগরের মোহনায় অবস্থিত চর নিজাম দ্বীপের বাসিন্দা কালাম মাঝি, সুমন, ফয়সাল, কাদের জানান, চরটি সাগরের মোহনায় হওয়ায় কোন প্রকার বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ সবসময় মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে।
এছাড়াও মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন শহীদ সামছুদ্দিন চর, চর নজরুল ও বদনারচরে কোন প্রকার বেড়িবাঁধ ও সাইক্লোন সেন্টার না থাকায় হাজার হাজার মানুষ সবসময় মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। এসব চরাঞ্চলে দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
উল্লেখ্য, ১৯৭০ সালে ১২ নভেম্বর গোর্কি নামের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস দক্ষিনাঞ্চল জুড়ে আঘাত হেনেছিলো। এতে বেড়িবাঁধ বা সাইক্লোন সেন্টার না থাকার কারণে মনপুরা উপকূলের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলো। এবং সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারিয়েছিলো। তারা দুঃসহ সেই রাতের স্মৃতি আজো ভুলতে পারেনি। সেই থেকে সাগরে কোন লঘুচাপ বা নিম্মচাপের খবর শুনলেই তারা ভয়ে আঁতকে ওঠেন। ১৯৭০ সালের মহাদূর্যোগের পরও উপকূলীয় অঞ্চলের লোকজনের নিরাপত্তার বিষয়টি এখনো উপেক্ষিত রয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে মনপুরার দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ড ভোলা-০২ এর নির্বাহী প্রকৌশলি মোঃ আফাউদদৌলা জানান, মনপুরার মূল ভূখন্ডে বেড়িবাঁধগুলো বেশিরভাগ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় নতুন করে পুরো মনপুরা জুড়ে ৫০ কিলোমিটার নতুন বেড়িবাঁধের কাজ চলছে। বিচ্ছিন্ন চরগুলোতে সঠিক সমীক্ষার মাধ্যমে বেড়িবাঁধের পরিকল্পনা করা হবে।
