

এম. পলাশ শরীফ, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সুন্দরবনে জেলেদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণসহ ১৩ দফা দাবিতে এক সভা করেছে জেলা মৎস্যজীবী পরিবার ও মৎস্যজীবী দলের সদস্যরা।
রবিবার (১৭ আগষ্ট) বিকেল ৫টায় জিউধরা ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জিউধরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি খ.ম কামাল হোসেন। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন বাগেরহাট জেলা মৎস্যজীবী পরিবারের সভাপতি বিএম নজরুল ইসলাম।
সভা থেকে বক্তারা সরকারের প্রতি দাবি তুলে বলেন, সুন্দরবনে জেলেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, সুন্দরবনে নিরীহ জেলেদের হয়রানি না করা, সকল খাল ও সমুদ্র চর দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করে প্রকৃত জেলেদের মাঝে বন্টন, সুন্দরবনে মাছ ধরার নামে বিষ প্রয়োগ করে মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, উপকূলীয় অঞ্চলে ৬টি স্থানে সুন্দরবন রক্ষার স্বার্থে জেলেদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার ব্যবস্থা করা, জেলেদের বি.এস.সি ও পাশ পেতে দালাল চক্রের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, সুন্দরবন রক্ষার স্বার্থে সুন্দরবন অঞ্চলের সকল অগভীর নদ-নদী পুনঃখনন, সরকারি অনুদানসহ বিদেশী দাতা সংস্থার অনুদান জেলেদের মধ্যে বন্টনের দাবিসহ ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য জোর দাবি জানান।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন পূর্ব সুন্দরবন জিউধরা ফরেষ্ট ষ্টেশন কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল ইসলাম, জেলা সাধারণ সম্পাদক শেখ আবুল কালাম আসাদ, সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মো. লাভলু মুন্সী। সভায় স্বাগত বক্তৃতা করেন ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মো. মাসুম হোসেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, বিএনপি নেতা আবুল বাশার, ইউনিয়ন জামায়েত ইসলামীর সভাপতি মাওলানা কবির আহম্মেদ আকন, পৌর মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল মিন্টুসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
সভা থেকে আরও অভিযোগ করে জেলেরা বলেন, বিগত সরকারের আমলে দলীয়করণ ও অর্থের বিনিময়ে অপেশাদারদের জেলেদের নিবন্ধিত তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। যে কারণে প্রকৃত জেলেরা খাদ্য সহায়তা থেকে হয়েছে বঞ্চিত। এমনকি মৃত ব্যক্তির নামেও চাল তুলে নিয়েছেন তথাকথিত প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। পুনরায় যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত জেলেদের নিবন্ধিত কার্ড দেওয়ার দাবি জানান প্রশাসনের প্রতি।
