

ইরানের সাথে চলমান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সংঘাতের শুরু থেকে এ পর্যন্ত যুদ্ধবিমান, নজরদারি বিমান ও ড্রোনসহ মোট ৪২টি মার্কিন আকাশযান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার (২০ মে) মার্কিন কংগ্রেসের স্বাধীন গবেষণা সংস্থা কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস)-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর সামরিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির পুর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ না করলেও, সিআরএস বিভিন্ন সামরিক সূত্র ও গণমাধ্যমের রিপোর্টের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান সংকলন করেছে।
সিআরএস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতের পর থেকে মার্কিন বিমান বাহিনী তাদের বেশ কিছু অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক কৌশলগত আকাশযান হারিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চারটি এফ-ফিফটিন-ই স্ট্রাইক ইগল এবং একটি পঞ্চম প্রজন্মের অত্যাধুনিক এফ-থার্টিফাইভ-এ লাইটনিং-টু স্টিলথ যুদ্ধবিমান। এছাড়াও স্থল অভিযানে সহায়তাকারী একটি এ-টেন থান্ডারবোল্ট গ্রাউন্ড-অ্যাটাক বিমান এবং মাঝআকাশে জ্বালানি সরবরাহের কাজে নিয়োজিত সাতটি কেসি-ওয়ান থার্টি ফাইভ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার বিমান ধ্বংস বা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তালিকায় একটি ই-থ্রি সেন্ট্রি ওয়াচ নজরদারি বিমান, দুটি বিশেষ অভিযানের বিমান এবং একটি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারও রয়েছে।
তবে এই যুদ্ধে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের চালকবিহীন ড্রোন বহর। প্রতিবেদনটি নিশ্চিত করেছে যে, গত কয়েক সপ্তাহের লড়াইয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের অন্তত ২৪টি দূরপাল্লার শক্তিশালী ‘এমকিউ-নাইন রিপার’ অ্যাটাক ড্রোন এবং নৌবাহিনীর একটি উচ্চ-প্রযুক্তির ‘এমকিউ-ফোরসি ট্রাইটন’ স্ট্র্যাটেজিক নজরদারি ড্রোন হারিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির এই বিশাল তালিকার তথ্য সামনে আসার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেছেন, তাদের সশস্ত্র বাহিনীই ইতিহাসে প্রথম মার্কিন এফ-থার্টিফাইভ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার গৌরব অর্জন করেছে।
কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলমান সংঘাত, তথ্যের গোপনীয়তা এবং যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতির কারণে ক্ষয়ক্ষতির এই সংখ্যা আগামীতে আরও বাড়তে পারে। এদিকে পেন্টাগনের ফাইন্যান্স চিফ জানান, এই হারানো সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন এবং মেরামতের খরচের কারণে ইরান অভিযানের আনুমানিক বাজেট ইতিমধ্যেই ২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
