

ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা থমকে যাওয়ায় ইরানে আরও জোরালো হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে— সম্ভাব্য এ সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে আগামী সপ্তাহে। তবে, এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মূলত, পাকিস্তানে আয়োজিত শান্তি আলোচনার লক্ষ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছিলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে দু'দেশের শীর্ষ নেতারা এক টেবিলে বসলেও ব্যাপক মতপার্থক্যের কারণে হয়নি কোনো সমঝোতা। এরপর দফায় দফায় শর্ত-পাল্টা শর্তের বেড়াজালে আটকে আছে চুক্তি।
শান্তি আলোচনা থমকে যাওয়ায় আবারও দেশটিতে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে যেখানে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহে পুনরায় যুদ্ধ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।তবে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের পরই নির্ধারিত হবে পরবর্তী পদক্ষেপ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনায় আরও জোরালো হামলা, হরমুজ প্রণালীর আশপাশে কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের বিকল্প বিবেচনায় রয়েছে। এরমধ্যে পারস্য উপসাগরের খার্গ দ্বীপের মতো গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র দখলের বিষয়টিও রয়েছে বিবেচনায়। একই সঙ্গে পারমাণবিক স্থাপনা থেকে সংবেদনশীল উপাদান উদ্ধারে বিশেষ বাহিনী ব্যবহারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশনের বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে বলে জানানো হয়।
তবে, বিশ্লেষকরা বলছেন, উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উত্তোলনে রয়েছে ঝুঁকি। ইরানের স্থলবাহিনীর প্রতিরোধেও রয়েছে ব্যাপক হতাহতের শঙ্কা।
এদিকে এক ঊর্ধ্বতন ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভ জানিয়েছে, নতুন করে দীর্ঘ সময়ের জন্য যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে তেলআবিব। এখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় দেশটি।

