

ইরানের খারগ দ্বীপ, যা দেশটির ৯০% অপরিশোধিত তেল রফতানির কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়, সেটি তেল সংরক্ষণ সক্ষমতা কয়েক দিনের মধ্যেই পূর্ণ হয়ে যাবে বলে দাবি করেছেন স্কট বেসেন্ট। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজ প্রবেশ ও বের হওয়া ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকবে। বুধবার (২২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন নিউজ এ তথ্য জানায়।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বেসেন্ট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দর অবরোধ চালিয়ে যাবে। এতে অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই খার্গ দ্বীপের সংরক্ষণাগার পূর্ণ হয়ে যাবে এবং ইরানের দুর্বল তেলক্ষেত্রগুলো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হবে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্য সীমিত করা মানে দেশটির প্রধান আয়ের উৎসে সরাসরি আঘাত হানা। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তেহরানের অর্থ সংগ্রহ, স্থানান্তর ও দেশে ফিরিয়ে আনার সক্ষমতা দুর্বল করতে কাজ চালিয়ে যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের জ্বালানি উৎপাদনের বড় অংশই খার্গ দ্বীপকেন্দ্রিক। ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত তেল-গ্যাসসমৃদ্ধ খারগ দ্বীপ। খারগ পারস্য উপসাগরে অবস্থিত পাঁচ বর্গমাইল আয়তনের এক দ্বীপ। ইরানের উপকূল থেকে এর দূরত্ব ১৬ কিলোমিটার। এটি ইরানের সবচেয়ে বড় জ্বালানি কেন্দ্র।
যদি অবরোধ কার্যকর হয় এবং সংরক্ষণ সক্ষমতা শেষ হয়ে আসে, তাহলে ইরানকে অপরিশোধিত তেল উৎপাদন কমাতে বা বন্ধ করতে হতে পারে। দেশটির মোট রফতানির আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে অপরিশোধিত তেল থেকে।
তবে বিশ্লেষকদের সতর্কতা, ইরানের অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি করতে হলে দীর্ঘ সময় ধরে কঠোরভাবে এই অবরোধ চালিয়ে যেতে হবে। কারণ এখনো সমুদ্রে দেশটির প্রায় ১৭ কোটি ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রয়েছে, যার বড় অংশই গন্তব্যে যাওয়ার পথে।
জেপি মরগানের বৈশ্বিক পণ্য গবেষণা বিভাগের প্রধান নাতাশা ক্যানেভা বলেন, আলোচনায় চাপ তৈরিতে এই অবরোধ কাজে আসতে পারে, তবে সেটি কঠোরভাবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে বাস্তবায়ন করতে হবে।

