

ইরান ও ভেনেজুয়েলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ‘দাপুটে’ সামরিক অভিযান উত্তর কোরিয়ার পিয়ংইয়ংয়ে এক অস্থিরতার ছায়া ফেলেছে। বিশেষ করে ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর ঘটনাটি কিম জং উনের জন্য এক অশনিসংকেত হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এ নিয়ে সিএনএন একটি বিশ্লেষণী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘আগ্রাসী যুদ্ধের’ নিন্দা জানালেও খামেনির মৃত্যুর খবরটি সম্পূর্ণ চেপে গেছে। বিশ্লেষক উইল রিপলির মতে, এটি কোনো আকস্মিক ভুল নয়। কিম জং উনের শাসনব্যবস্থা নেতার ‘অজেয়’ ভাবমূর্তির ওপর টিকে আছে। অন্য কোনো দেশের ‘সর্বোচ্চ নেতাকে’ এভাবে লক্ষ্যবস্তু করে নির্মূল করা যায়- এই তথ্য জানলে উত্তর কোরিয়ার সাধারণ মানুষের মনে নেতার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই পিয়ংইয়ং এই বিপজ্জনক নজিরটি আড়াল করতে চাইছে। ট্রাম্পের কূটনীতি থেকে দ্রুত সামরিক অভিযানে মোড় নেওয়ার ক্ষমতা কিমকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। ভেনেজুয়েলার মাদুরোকে অপহরণ এবং ইরানের খামেনিকে হত্যার ঘটনা প্রমাণ করে যে, ট্রাম্প এখন আর কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ নেই।
চলতি মাসের শেষদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে এশিয়ায় আসার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। যদিও কিমের সঙ্গে কোনো বৈঠকের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে ‘কোরিয়া রিস্ক গ্রুপ’-এর প্রধান চ্যাড ও’ক্যারল মনে করেন, কিম জং উন হয়তো নিজেই এখন ট্রাম্পকে ফোন করার কথা ভাবছেন। ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ নীতি এখন ‘চিরন্তন যুদ্ধ’ বন্ধের বদলে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের দিকে ঝুঁকছে। কিম জং উন খুব ভালো করেই জানেন, পারমাণবিক অস্ত্র তার তুরুপের তাস হলেও ট্রাম্পের বর্তমান মেজাজ যে কোনো সময় সেই হিসাব উল্টে দিতে পারে।
সিএনএন বলছে, ইরান ও ভেনেজুয়েলার পর উত্তর কোরিয়া এখন ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হবে নাকি কিম নতুন কোনো নাটকীয় সমঝোতায় পৌঁছাবেন, সেটাই এখন বৈশ্বিক রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
