ঢাকা
logo
প্রকাশিত : July 17, 2025

চীনের হামলার হুমকি মোকাবেলায় তাইওয়ানে সাইরেন, সামরিক মহড়া

চীনের সম্ভাব্য আগ্রাসনের হুমকি প্রতিরোধে তাইওয়ান এ সপ্তাহে তার ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ নাগরিক প্রতিরক্ষা মহড়া চালাচ্ছে। রাজধানী তাইপে বৃহস্পতিবার পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়বে, যখন সারা শহরে বিমান হামলা সতর্কতা সাইরেন বেজে উঠবে এবং নাগরিকদের ঘরে আশ্রয় নিতে বাধ্য করা হবে। রাস্তার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে এবং জরুরি সরবরাহ বিতরণ ও আহতদের চিকিৎসার প্রস্তুতিও নেয়া হবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এই ‘আর্বান রেজিলিয়েন্স’ নামের মহড়া চলছে বার্ষিক হান কুয়াং সামরিক মহড়ার সঙ্গে একযোগে— যেটি তাইওয়ানের সবচেয়ে বড় সামরিক প্রস্তুতির অংশ। এতে তাইওয়ানের সামরিক ও বেসামরিক উভয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একসঙ্গে পরীক্ষিত হচ্ছে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অঞ্চল বলে দাবি করে এবং প্রয়োজন হলে বলপ্রয়োগে পুনঃএকত্রীকরণের কথা বলে আসছে। ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে উইলিয়াম লাই-এর বিজয়ের পর থেকে চীনের রোষ আরও বেড়েছে। কারণ তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে চীনের কাছে অপছন্দের।

মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত প্রতিদিনই বিভিন্ন শহরে অধাঘণ্টা করে বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন বাজানো হচ্ছে। নির্ধারিত এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের ঘরে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে, অন্যথায় জরিমানা করা হবে। দোকানপাট, রেস্টুরেন্ট বন্ধ রাখা হচ্ছে এবং সব যানবাহন থামিয়ে চালকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হচ্ছে। তাইপে শহরে স্কুল, মন্দির, সাবওয়ে স্টেশন ও মহাসড়ক থেকে গণহারে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। একটি কৃত্রিম গণহত্যা পরিস্থিতির চর্চাও করা হচ্ছে। আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসা, জরুরি খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র স্থাপন সহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চলছে। তাইওয়ানে জনগণের মধ্যে এই মহড়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

২৯ বছর বয়সী ফিনান্স কর্মী বেন বলেন, চীনের হামলা করার সুযোগ অনেক আগে ছিল। তবুও এই প্রস্তুতি দরকার। কারণ হুমকি পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। ৪৮ বছর বয়সী অফিস কর্মী মিস্টার শুয়ে বলেন, চীন ও তাইওয়ানের সামরিক শক্তির মধ্যে ব্যবধান এত বেশি যে প্রতিরোধ করেও কোনো লাভ নেই ২০২৩ সালের অক্টোবরে সরকার-সমর্থিত ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি রিসার্সের (আইএনডিএসআর) জরিপে দেখা যায়, শতকরা ৬০ ভাগ তাইওয়ানবাসী মনে করেন আগামী পাঁচ বছরে চীন আক্রমণ করবে না। কিন্তু একই জরিপে মাত্র ৫০ ভাগ মানুষই তাদের সেনাবাহিনীর সক্ষমতায় আস্থা রাখেন। এবারের হ্যান কাং মহড়ায় ২২,০০০ সেনা অংশ নিয়েছে। গত বছরের তুলনায় এই সংখ্যা শতকরা ৫০ ভাগ বেশি।

মার্কিন সরবরাহকৃত হিমারস মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং তাইওয়ান-নির্মিত রকেট পরীক্ষা করা হয়েছে। সামরিক যুদ্ধ ছাড়াও ‘গ্রে-জোন’ যুদ্ধ, যেমন গুজব, বিভ্রান্তি, ডিজিটাল হস্তক্ষেপ মোকাবিলা করাও চর্চার অংশ। তাইপে শহরের মেট্রো ও প্রদর্শনী কেন্দ্রে নগর যুদ্ধে জড়িত থাকার মহড়া, এবং তায়ুয়ান শহরের একটি স্কুলকে ট্যাংক মেরামত কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তর করে অভিযান চালানো হয়েছে। তাইচুং শহরে রাস্তায় ‘শত্রু প্রতিরোধ’ চর্চা করা হয়েছে।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram