

মতিয়ার রহমান মধু, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে দেবহাটা উপজেলায় শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। পূজার দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে মণ্ডপে মণ্ডপে ব্যস্ততা। প্রতিমা শিল্পী ও কারিগরদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাচ্ছে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য প্রতিমা। কোথাও চলছে মাটির শেষ প্রলেপ, কোথাও রঙের কাজ, আবার কোথাও চলছে প্রতিমার সাজসজ্জা ও অলংকার তৈরির ব্যস্ততা।
দেবহাটা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন—কুলিয়া, পারুলিয়া, সখিপুর, নওয়াপাড়া ও দেবহাটা সদর—জুড়ে এবার ২১টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন চলছে। ৭ অক্টোবর বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পী ও কারিগররা।
প্রতিমা তৈরির শুরুটা হয় বাঁশ ও কাঠের কাঠামো নির্মাণের মধ্য দিয়ে। এরপর খড় দিয়ে তৈরি করা হয় প্রতিমার অবয়ব। তার ওপর ধাপে ধাপে দেওয়া হয় মাটির প্রলেপ। মাটি শুকিয়ে শক্ত হওয়ার পর শুরু হয় সূক্ষ্ম কারুকাজ। সবশেষে রঙের আঁচড়, চোখ-মুখের অভিব্যক্তি, পোশাক, অলংকার ও সাজসজ্জার মাধ্যমে প্রতিমাগুলোকে দেওয়া হয় নান্দনিক রূপ।
শুধু দেবী দুর্গাই নন, একইসঙ্গে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও অসুরের প্রতিমাতেও চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। বিশেষ করে চোখ ও মুখের অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তোলার কাজে বাড়তি মনোযোগ দিচ্ছেন শিল্পীরা। তাদের নিখুঁত তুলির আঁচড়ে মাটির প্রতিমাগুলো যেন ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে।
প্রতিমা শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুর্গাপূজার কয়েক মাস আগে থেকেই প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়। প্রতিটি প্রতিমা তৈরিতে ধৈর্য, দক্ষতা ও সময়ের প্রয়োজন হয়। প্রথমে কাঠামো তৈরি, এরপর মাটি দিয়ে অবয়ব দাঁড় করানো এবং সবশেষে রঙ ও সাজসজ্জার কাজ সম্পন্ন করতে হয়। পূজার সময় ঘনিয়ে আসায় এখন দিন-রাত পরিশ্রম করছেন কারিগররা। মণ্ডপগুলোতে এখন উৎসবের প্রস্তুতির পাশাপাশি চলছে সাজসজ্জার কাজও। প্রতিমার পাশাপাশি আলোকসজ্জা, মণ্ডপসজ্জা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক প্রস্তুতিতেও ব্যস্ত আয়োজকরা। পূজার দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই মণ্ডপগুলোতে বাড়ছে ভক্ত-দর্শনার্থীদের আনাগোনা।
শিল্পীদের সুনিপুণ হাতের কারুকাজে প্রতিমাগুলো যখন পূর্ণাঙ্গ রূপ নিচ্ছে, তখন মণ্ডপে মণ্ডপে তৈরি হচ্ছে উৎসবের আবহ। সব প্রস্তুতি শেষ করে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রত্যাশা আয়োজক ও ভক্তদের।
