

মোঃ মোকাররম হোসাইন, কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের কালাইয়ে দীর্ঘদিন ধরে খাস জায়গা দখলে নিয়ে টিনের বাড়ির থাকা অবস্থায় ভিতরে কলম তুলে ইটের বাড়ি নির্মাণ কাজ করার অভিযোগ ওঠেছে নূর আলম ওরুফে নূরা নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এমন ঘটনায় প্রতিবেশীরা খাস জায়গা উদ্ধার করতে উপজেলা ও পৌরসভায় অভিযোগ দিয়েছেন। এ ঘটনা পৌরশহরের মূলগ্রাম পূর্বপাড়া মহল্লায় ঘটেছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি খাস জায়গায় ইটের বাড়ি নির্মাণের সত্যতা স্বীকার করেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি খাস খতিয়ান ভূক্ত ১০৮৮ দাগের ৮ শতাংশ জমির উপর তিন ভাইয়ের টিনের নির্মাণকৃত বসত বাড়ি রয়েছে। তিন ভাইয়ের মধ্যে নূর আলাম (নুরা) তাঁর টিনের ঘরের আড়ালে পাকা বাড়ি নির্মাণ করতে কলাম ওঠানোর কাজ শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে গেটবিম পর্যন্ত ওঠানো হয়েছে। বর্তমানে ওইভাবেই কাজ চলমান রয়েছে। এরইমধ্যে প্রতিবেশী লিয়াকত আলী নামে এক ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও পৌরসভা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ পেয়ে এসব দপ্তর তদন্ত করেছেন এবং খাস জমি দখল করে টিনের বাড়ির আড়ালে ইটের বাড়ি নির্মাণের সত্যতা পেয়েছেন।
খাস জায়গা দখল করে টিনের বাড়ির আড়ালে বাড়ি নির্মাণের সতত্যা নিশ্চিত করে অভিযুক্ত নূর আলাম বলেন, আমি একজন ভূমিহীন। বিগত ৩৫/৪০ বছর ধরে আমি পরিবার নিয়ে এই জায়গায় বসবাস করে আসছি। এটাও জানি এই জায়গা সরকারি খাস। টিনের বাড়িটি নড়বড় হয়ে গেছে, তাই নতুন করে ইট দিয়ে বাড়িটি নির্মাণ করছি। আমার আর কোনো জায়গা-জমি নেই, এই ঘরেই থাকি। সবকিছুই আপনারা দেখছেন। আমার আর বলার কিছু নেই।
আরেক ভাই নূর মোহাম্মদ বলেন, আমাদের বাপ দাদার আমল থেকে এখানে আমরা তিন ভাই পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছি। খাস ৮ শতাংশ জায়গার মধ্যে আমার ভিতর ৩ শতাং আরেক ভাইয়ের ভিতর ৩ শতাংশ এবং বড় জালাল উদ্দিনের ভিতরে ২ শতাংশ রয়েছে। আমরা আসলে যাবো কোথায়? আমাদের কোনো জায়গা-জমি নেই। তাদের বড় ভাই জালাল উদ্দিনও খাস ২ শতাংশ জায়গা দখলের বিষয় নিশ্চিত করেছেন।
কালাই সদর ভূমি সহকারি কর্মকর্তা (তহশিলদার) বিমল চন্দ্র বলেন, গত রোববার সরজমিনে গিয়ে খাস জায়গার উপর টিনের বাড়ির আড়ালে ইটের বাড়ি নির্মাণের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে সিমানা নির্ধারণ করে খুটি বসানো হবে। সেই সাথে চলমান কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তবে বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে তা আমি জানিনা। এই মাত্র আপনার নিকট জানলাম। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
