

শাহ সারওয়ার, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলাই ইউনিয়নের তেরহাসিয়া গ্রামে দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পত্তির সীমানা বিরোধের জেরে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার অবসান হয়েছে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়ার তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে। তাঁর উদ্যোগে বিরোধের নিষ্পত্তি হওয়ায় টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে পানিবন্দি হয়ে পড়া প্রায় ৩০০টি পরিবার স্বস্তি ফিরে পেয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তেরহাসিয়া গ্রামের ইন্নছ আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম গত বছর নিজ জমিতে একটি পুকুর খনন করে মৎস্য প্রকল্প গড়ে তোলেন। এরপর থেকে ওই এলাকার পানি নিষ্কাশনে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। এদিকে পারিবারিক সম্পত্তির সীমানা বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। চলমান বিরোধের কারণে পুকুরের ওপর দিয়ে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় সাম্প্রতিক টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে গ্রামের প্রায় ৩০০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আনলে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি আবুল কালাম ভূঁইয়া ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটান।
পরে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে পুকুরের মালিক শফিকুল ইসলাম নিজ উদ্যোগে পানি নিষ্কাশনের জন্য পথ খুলে দেন। এতে জমে থাকা পানি দ্রুত নেমে যেতে শুরু করে এবং পানিবন্দি পরিবারগুলোর দুর্ভোগ লাঘব হয়।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে পুকুরের মালিক শফিকুল ইসলামকে বুঝিয়ে বলি যে, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় শত শত মানুষ কষ্টে রয়েছেন। পানি ছাড়লে তার মাছের কিছু ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও জনস্বার্থ ও মানবিক দিক বিবেচনা করে তিনি স্বেচ্ছায় পানি যাওয়ার পথ করে দেন। এতে জলাবদ্ধতার অবসান হয়েছে। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে পুলিশ সবসময় পাশে থাকবে।”
এলাকাবাসী ওসির মানবিক ও সময়োপযোগী ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগ না থাকলে জলাবদ্ধতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতো এবং মানুষের দুর্ভোগ বাড়ত। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসমস্যা সমাধানে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।
