

বিশেষ প্রতিনিধি, জাহেদুল জাহিদ: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় নতুন একটি ইউনিয়ন—“বরিশল ইউনিয়ন”—সংযুক্ত হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও উন্নয়ন কাঠামোয় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
বরিশল, কোড্ডা, চান্দি, শ্যামনগর, বৈষ্ণবপুর ও কোড়াবাড়ি নিয়ে গঠিত এই ইউনিয়ন যুক্ত হওয়ার ফলে আখাউড়া উপজেলায় ইউনিয়নের সংখ্যা পাঁচ থেকে বেড়ে ছয়ে উন্নীত হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, কসবা ও আখাউড়া নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের মধ্যে কসবায় দীর্ঘদিন ধরেই দশটি ইউনিয়ন পরিষদ থাকলেও তুলনামূলক ছোট প্রশাসনিক কাঠামোর কারণে আখাউড়া অনেক ক্ষেত্রে উন্নয়ন ও সেবাবঞ্চিত ছিল।
নতুন ইউনিয়ন সংযুক্তির ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের নাগরিক সেবা প্রাপ্তি সহজতর হবে বলে আশা করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই উদ্যোগ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও ভূঁইয়া গ্লোবাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব কবীর আহমেদ ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে আখাউড়ার প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ করে আসছেন।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য থেকে তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগে বরিশল ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা ও আখাউড়ায় সংযুক্তির জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করেন। পরবর্তীতে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হলে এলাকাজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ইউনিয়ন গঠনের এই পদক্ষেপ শুধু প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস নয়; বরং এটি আখাউড়ার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ।
মনোনয়ন না পেলেও থেমে নেই উন্নয়ন কার্যক্রম - রাজনৈতিক বাস্তবতায় মনোনয়ন না পেলেও উন্নয়ন কার্যক্রম থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেননি আলহাজ্ব কবীর আহমেদ ভূঁইয়া। বরং কসবা-আখাউড়ার বিভিন্ন সামাজিক, ক্রীড়া ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয়তা আরও বেড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
তার উদ্যোগে ইতোমধ্যে কসবা ও আখাউড়ায় দুটি আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া গেছে। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১০০টি ইউনিয়নে ১০০টি খেলার মাঠ নির্মাণের একটি বৃহৎ পরিকল্পনা সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য তরুণ সমাজকে ক্রীড়ামুখী ও মাদকমুক্ত রাখা।
পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তিনি। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের আওতায় একটি বৃহৎ বনায়ন প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এছাড়া আখাউড়ার দীর্ঘদিনের দাবিকৃত জাঙ্গালের ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে তার প্রচেষ্টায়। জনদুর্ভোগ কমাতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের অনুমোদন আনার ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা রেখেছেন বলে এলাকাবাসীর অভিমত।
“মানুষের পাশে ছিলাম, আছি, থাকবো”-
স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে আলহাজ্ব কবীর আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের অন্যতম লক্ষ্য একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাবান রাষ্ট্র গঠন। দলের একজন কর্মী এবং এই অঞ্চলের সন্তান হিসেবে মানুষের কল্যাণে কাজ করাকে আমি দায়িত্ব মনে করি। আমি আগে আপনাদের পাশে ছিলাম, এখনো আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো ইনশাআল্লাহ। আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসাই আমার শক্তি।”
নতুন সম্ভাবনার পথে আখাউড়া নতুন বরিশল ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্তি আখাউড়ার প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সেবার মান উন্নয়ন এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে এ ধরনের উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক বিকেন্দ্রীকরণ, অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন এবং টেকসই প্রশাসনিক কাঠামো গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
আখাউড়ার মানুষ এখন প্রত্যাশা করছেন—নতুন ইউনিয়ন, নতুন অবকাঠামো এবং চলমান উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে অঞ্চলটি দ্রুতই একটি আধুনিক ও সম্ভাবনাময় উপজেলায় রূপ নেবে।
