

আবিদ হাসান, হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে মাদকের মতই গোপনে অকটেন, পেট্রোল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর দেড় থেকে দুইগুণ টাকা দিলেই নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে পেট্রোল, অকটেন। ডিজেলের চাহিদা কমে গেলেও অভিযোগ রয়েছে- উপজেলার ঝিটকা বাজার, ঝিটকা হরিরামপুর মোড়,পাটগ্রাম, কান্ঠাপাড়া লোকনাথ মন্দিরের পাশে, বলড়া, মালাকার মোড়, নয়ারহাট, আন্ধারমানিক বাজার, চাদপুর, সদর উপজেলার হাটিপাড়া, বালিরটেক ব্রিজের পাশে, লেছড়াগঞ্জ চরসহ দুই থেকে আড়াইশত টাকায় প্রতি লিটার অকটেন, পেট্রোল গোপনে রাতের আধারে বিক্রি করার অভিযোগ তীব্র।
অনেকেই বলছে, সংকট থাকলে টাকা দিয়েও তো অকটেন, পেট্রোল পাওয়ার কথা নয়। বেশি দাম আর মাদকের মত গোপনে অতিরিক্ত টাকা দিলে পাওয়া মানেই ভয়ংকর সিন্ডিকেটে জিম্মি সাধারণ মানুষ। বাধ্য হয়ে রাতের আধারেই অতিরিক্ত মূল্যে অকটেন, পেট্রোল কিনতে হচ্ছে মোটরসাইকেল চালকদের। আর নির্দিষ্ট ব্যক্তির মাধ্যমে দিনে টাকা পরিশোধ করে রাত ৯/১০ টার মধ্যে এসব জ্বালানি পৌছে যায় গোপনে। তাছাড়া মুদি মনোহারি, সাধারণ দোকানদারও এখন অবৈধভাবে অকটেন, পেট্রোল মজুদ করে ব্যবসায়ী সেজেছে বলে হতাশা প্রকাশ করেছে অনেকেই।
এরই মধ্যে আন্ধারমানিক বাজার থেকে আড়াইশত টাকা দরে প্রতি লিটার পেট্রোল কিনতে গিয়ে হট্টগোল বাধে। প্রতিবাদের মুখে মুদি দোকানদার থেকে প্রায় কয়েকশত লিটার পেট্রোল পুলিশের উপস্থিতিতে দেড়শত টাকায় প্রতি লিটার বিক্রি করতে বাধ্য হয়।
মটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের এ যেন ভয়াবহ অবস্থা। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরিক্ত দাম আর গোপনে বিক্রির প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে অনেককেই। পেট্রোল, অকটেনের চড়া দাম আর গোপনে বিক্রির কারণে মটরসাইকেল চলাচল সীমিত হয়েছে বলেও দেখা যায়।
উপজেলার আন্ধারমানিক গ্রামের নিপুন জানান, কান্ঠাপাড়া লোকনাথ মন্দিরের পাশ থেকে রাত সাড়ে দশটার পর ৪ লিটার পেট্রোল ১ হাজার টাকায় গোপনে কিনলাম। টাকা দিয়ে গোপনে মাদকের মত পেট্রোল কিনতে হলো, এটা বলতেও লজ্জা করে। বাধ্য হয়ে কিনতে হলো আর কি।
বাহিরচর গ্রামের হাসান আল মামুন বলেন, তেলের অভাব আর আড়াইশত টাকা প্রতি লিটার গোপনে ক্রয় করতে হয় বলে মটরসাইকেল বাড়িতে রেখে দিয়েছি। তেলের সংকট থাকলে তো টাকা দিয়েও পাওয়ার কথা না। মানুষকে বিপদে ফেলে টাকা লুটপাটের মহোৎসব এটা।
গালা ইউপি চেয়ারম্যান শফিক বিশ্বাস জানান, পেট্রোলের অভাবে মটরসাইকেল চলাচল সীমিত করে দিয়েছি। এমন সংকট হবে, কল্পনাও করিনি। এখন বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে অনেকেই, এটা শুনতেছি।
মানিকগঞ্জ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, অবৈধ তেল মজুদকারী আর অতিরিক্ত দামে বিক্রয়কারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে। আপনারা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন।

