

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পা বাঁধা এক কৃষকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের নাম ছদিকুর রহমান (৪২) প্রকাশ চৌধুরী মিয়া। তিনি উপজেলার নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব দুর্গাপুর গ্রামের সোনামিয়া বাড়ির মৃত আমিনুল হকের ছেলে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুারি) সকাল দশটায় দুর্গাপুর ইউনিয়নের ঠাকুরদীঘি বাজারের উত্তর পাশে কৃষি জমি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।
স্বজনরা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে ছদিকুর রহমান নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারে স্ত্রী-সন্তান না থাকায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খোঁজ নেওয়া হয়নি। বুধবার সকালে অন্যান্য কৃষকরা জমিতে কাজ করতে গিয়ে তাকে পা বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের ভাইয়ের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেশী রিপন ও মাঈন উদ্দিনের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের জেরে আমার বাসুরকে মারধর করা হয়। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানানো হলে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বলা হয়। আজ (বুধবার) থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল (মঙ্গলবার) ইফতারের পর থেকে তাকে আর পাওয়া যায়নি। সকালে শুনি তার লাশ জমিতে পড়ে আছে। আমার বাসুরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।’
লাশ উদ্ধার করা জোরারগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক ফারুক হোসেন বলেন, ‘বুধবার সকালে কৃষি জমিতে এক ব্যক্তির পা বাঁধা রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা লাশটি উদ্ধার করি। নিহত ব্যক্তির পা গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল এবং শরীরে বিভিন্ন অংশে কাদা ও রক্তমাখা ছিল। রাতের কোন একসময় হত্যা করে ওই ব্যক্তিকে এখানে ফেলে রেখে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক বলেন, ‘পূর্ব শত্রুতার জেরে এই হত্যাকান্ড হয়েছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত ব্যক্তির পরিবারের কেউ এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি।’

