

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল এলাকায় সদ্য সন্তান জন্ম দেওয়া এক তরুণীর আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত তরুণীর নাম ফাতেমা বেগম (২১)। তিনি এক সন্তানের জননী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে শেখেরখীল এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে ফাতেমা বেগমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহতের স্বজনদের দাবি, শেখেরখীল ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মো. এরফানুল হকের কন্যা ফাতেমা বেগম একই এলাকার মৃত হাজী সৈয়দ আহমদের ছেলে নেজাম উদ্দিনের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে গর্ভবতী হন। এ সম্পর্ক পারিবারিকভাবে মেনে না নেওয়ায় তিনি বাদী হয়ে মা ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১, চট্টগ্রাম-এ মামলা দায়ের করেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মামলার পর থেকেই বিবাদীদের পক্ষ থেকে ফাতেমাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এর মধ্যেই গত ২৭ জানুয়ারি তিনি একটি সন্তানের জন্ম দেন। এরপর চাপ ও মানসিক নির্যাতন আরও বেড়ে যায়। এসব কারণে তিনি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন বলে স্বজনদের দাবি।
এ ঘটনায় নিহতের বোন জোবাইদা নাহার রিকু বাদী হয়ে বাঁশখালী থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
বাঁশখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শুদ্ধাংশু শেখর হালদার জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
অভিযুক্ত নেজাম উদ্দিনের স্ত্রী হামিদা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার স্বামী বর্তমানে সাগরে মাছ ধরতে গেছেন এবং এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি দাবি করেন, সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতেই তার স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নিহত ফাতেমার বোনের স্বামীর সঙ্গে তার স্বামীর আর্থিক লেনদেন ছিল। ওই ব্যক্তি বিভিন্ন সময় প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ধার নেন। টাকা ফেরত চাইলে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়।
হামিদা বেগম জানান, ফাতেমা, তার বোন ও দুলাভাই তাদের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন। বোনের এক প্রতিবন্ধী সন্তানের চিকিৎসার কারণে বোন শহরে যাতায়াত করতেন এবং ওই সময় ঘরে থাকতেন ফাতেমা ও তার দুলাভাই। ফাতেমা গর্ভবতী হওয়ার খবরে তার দুলা ভাই তখন থেকে লাপাত্তা। এখানেই ঘটনার প্রকৃত রহস্য লুকিয়ে থাকতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে সালিশ-বিচার হলেও অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় ডিএনএ পরীক্ষার প্রসঙ্গ ওঠে। তার দাবি, প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সন্দেহভাজন সবাইকে আইনের আওতায় এনে ডিএনএ পরীক্ষা করা হোক। নিরীহ কাউকে হয়রানি করা উচিত নয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষার বিষয়সহ পূর্বের মামলাটিও বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

