

নতুন সরকারের কাছে অনেক প্রত্যাশা দক্ষিণাঞ্চলবাসীর। কয়েক যুগের বঞ্চনার অবসান কাটিয়ে দরিদ্রতার কশাঘাত থেকে মুক্তি পেতে চায় এ অঞ্চলের মানুষ। স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলে গড়ে উঠেনি কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান। এখানকার মানুষকে এলাকার উন্নয়নের জন্য নামতে হয় রাজপথে। যেটুকু উন্নয়ন হয়েছে তা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের আন্দোলন-সংগ্রামের ফসল।
বরিশাল নামমাত্র বিসিক শিল্পনগরী থাকলেও নানান সংকটে গড়ে উঠেনি উদ্যোক্তা। হাতে গোনা যে দু-একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে তাও হুমকির মুখে। এমতাবস্থায়, দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে ঢাকা-ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়কের বরিশাল-ভাঙ্গা অংশের ছয় লেন প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ অবিলম্বে শুরু করা, ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে বরিশাল হয়ে ঢাকা ও খুলনা বিভাগে গ্যাস সরবরাহ, বরিশালে ইপিজেড প্রতিষ্ঠা, ১২ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত বরিশালে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, বরিশাল-ঢাকা এবং যশোর-বরিশাল-চট্টগ্রাম আকাশপথে নিয়মিত বিমানের ফ্লাইট চালু, বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূলীয় নৌপথে স্টিমার সার্ভিস পুনর্বহাল, বেগম জিয়ার স্বপ্ন ও ঘোষণা কুয়াকাটাকে ‘একান্ত পর্যটন এলাকা’ হিসেবে গড়ে তোলা এবং বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও কুয়াকাটা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন ছাড়াও বরিশালে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে নতুন সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে বলে মনে করছেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বরিশালের উন্নয়নে সরব ভূমিকায় থাকা নাছিম উল আলম।
বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট নরুল ইসলাম খান রাজন ২৭ দফা দাবির মাধ্যমে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরিশালের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এবার বরিশাল সদর আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার উন্নয়নে বিএনপির ভূমিকা তুলে ধরেছেন। তিনি ভোলা-বরিশাল সংযোগ, বরিশাল ডুয়েল গেজ রেললাইন স্থাপন, বরিশালে আধুনিক স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও ইপিজেড স্থাপন, বরিশাল বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ, কুয়াকাটাকে বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, বরিশাল নগরীর খাল উদ্ধার, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়ন, শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে আধুনিকায়ন, বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা ২৫০ এ উন্নীতকরণ এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্প চালুর বিষয়ে কাজ করবেন বলে জানান।
বরিশালবাসীর দাবি, উন্নয়ন কার্যক্রমে যথাযথ পদক্ষেপ না নিতে পারলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে। খাদ্যশস্যের মূল ভাণ্ডার দক্ষিণাঞ্চলের এ ক্ষতির প্রভাব পড়বে জাতীয় অর্থনীতিতে। তাই দক্ষিণাঞ্চল থেকে নির্বাচিতদের মধ্যে থেকে মন্ত্রিসভার বিষয়টি সর্বাগ্রে বিবেচনায় আনা উচিত বলে মনে করছেন এখানকার বিশিষ্টজনরা।

