

এম আনোয়ার হোসেন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: জনপ্রতিনিধিত্বের শুরুতেই তিনি ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য। তারই ধারাবাহিকতায় নির্বাচিত হন ইউপি চেয়ারম্যান। পরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, এবার তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন। এতক্ষন যার কথা বলছি তিনি হলেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল আমিন। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে তিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর এডভোকেট ছাইফুর রহমান পান ৮১ হাজার ২২৭ ভোট।
জানা যায়, মিরসরাই উপজেলার ৫ নম্বর ওচমানপুর ইউনিয়নের পাতাকোট গ্রামে ১৯৬৮ সালের ১ জানুয়ারি নুরুল আমিনের জন্ম। পিতা মরহুম মাওলানা আবুল খায়ের ছিলেন বড় আলেম। তিনি পটিয়া আল জামেয়াতুল ইসলামীয়া মাদরাসা থেকে কামিল পাশ করেন। নুরুল আমিন ও নুরুন্নাহার দম্পত্তির চার ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। নিজ গ্রাম ও পাশ্ববর্তী গ্রামের মানুষের ভালোবাসা ও সমাজসেবার ব্রত নিয়ে তিনি ১৯৯৮ সালে প্রথমবারের মতো ওচমানপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন। প্রথমবার ইউপি সদস্য হিসেবে জনগণের ভালো সাড়া পেয়ে পরে ২০০৩ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েও নিকটতম প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে জয় লাভ করেন। এসময় তিনি ২০০৩ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ওচমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১৪ সালে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে মিরসরাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তবে কিছু সময় উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর সেখান থেকে তাকে অপসারণ করা হয়। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেও নির্বাচিত হতে পারেননি তিনি। এবার দলের মনোনয়ন পেয়ে বড় ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে হারিয়ে জীবনে চতুর্থবারের মতো জনপ্রতিনিধির আসনে অধিষ্ঠিত হলেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ওচমানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সদস্য ছিলেন। ২০০৮ সালে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ও একই বছরে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক, বর্তমানে তিনি মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সদস্যের দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিগত সময়ে ৩১ টি মামলা হয়েছে। এ পর্যন্ত তিনি ৫ বার কারাবরণ করেছেন।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল আমিন বলেন, ‘মিরসরাইবাসী আমাকে অনেক করেছে। আমি মিরসরাইবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞ। সেই ইউপি সদস্য থেকে আজ আমি এমপি হয়েছি। মানুষের অগাধ ভালোবাসা না পেলে এসব অর্জন কখনো সম্ভব হতো না। আমার পথচলা খুব সহজ ছিল না। নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আজকের এই অবস্থানে আমি আসতে পেরেছি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসায়। এখন আমার দায়িত্ব একটি নিরাপদ ও শান্তির মিরসরাই গড়ে তোলা। আমি আমার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে পারি সেজন্য সকলের দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করছি।’

