

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি: মাত্র ১৩ বছর বয়সেই খেলাধুলার প্রতি অদম্য আগ্রহ ও অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে মিথিলা মহুয়া। হকি, টেনিস, হাইজাম ও ফুটবলের পাশাপাশি সর্বশেষ আন্তর্জাতিক মানের খেলা উসু(ফেন্সিং) নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-তে সুযোগ পেয়েছে সে। কিন্তু নির্মম বাস্তবতা হলো পারিবারিক আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সেই স্বপ্নের দরজায় পা রাখা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে মিথিলার।
মিথিলা মহুয়া বাগাতিপাড়া উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের মাড়িয়া নওদাপাড়া গ্রামে মুক্তার হোসেন ও হামিদা বেগম দম্পতির বড় মেয়ে। বর্তমানে সে বাগাতিপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী। শৈশব থেকেই খেলাধুলার প্রতি মিথিলার প্রবল আগ্রহ। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণ করে আসছে সে। স্থানীয় পর্যায় ছাড়িয়ে জেলা পর্যায়ের ট্রায়াল পেরিয়ে সম্প্রতি বিকেএসপিতে উসু(ফেন্সিং) বিষয়ে সুযোগ পাওয়ায় একজন গ্রামবাংলার মেয়ের জন্য নিঃসন্দেহে বড় অর্জন।
কিন্তু মিথিলার বাবা মুক্তার হোসেন একজন ভ্যানচালক। নিত্যদিনের সংসার খরচ চালাতেই হিমশিম খেতে হয় পরিবারটিকে। বিকেএসপিতে ভর্তি, খেলাধুলার সরঞ্জাম, যাতায়াত ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মিথিলার মা হামিদা বেগম বলেন, তার মেয়েটা ছোট থেকেই খেলাধুলা খুব ভালোবাসে। বিকেএসপিতে চান্স পাওয়ার খবর শুনে আমরা অনেক খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু টাকার অভাবে যদি সে যেতে না পারে এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। গত বছরও তার মেয়ে বিকেএসপি তে সুযোগ পেয়েছিল শুধু অর্থের অভাবে যাওয়া হয়নি। এ বছরও সে উসু খেলায় সুযোগ পেয়েছে, আগামী ২৩ তারিখের মধ্যে ভর্তি হতে হবে এর জন্য ৫০-৬০ হাজার টাকার প্রয়োজন। তাই সকলের কাছে তাঁর মেয়ের ও দেশের ভবিষ্যতে জন্য মেয়ের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান তিনি।
মিথিলা নিজেও স্বপ্নভরা চোখে জানায়, এর আগেও সে টেনিস এ সুযোগ পাওয়ায় বাবার টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারেনি। এবারও সে উসুতে সুযোগ পেয়েছে আগামী ২৩ তারিখের মধ্যে ভর্তি হতে না পারলে তার এবারও সুযোগ হাতছাড়া হবে। ভর্তি হতে পারবে কি না তা জানেনা মিথিলা। কারণ তার ভর্তির জন্য ৫০-৬০ হাজার টাকার প্রয়োজন। বাবা অতিদরিদ্র মানুষ, ভ্যান চালিয়ে পরিবার টিকে দেখাশুনা করেন। তাই সরকার ও দেশবাসির কাছে সহযোগিতার চান মিথিলা।
মিথিলার প্রতিবেশী মলিন আলী (৪৫) জানান, মিথিলা তার প্রতিবেশী তাদের বোন। টাকার অভাবে মিথিলার বিকেএসপিতে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।মিথিলার ভর্তির জন্য ৫০-৬০ হাজার টাকা প্রয়োজন তাই সমাজের বৃত্তবানদের মিথিলার পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন। তিনি আরও বলেন, টাকার কাছে যেন প্রতিভা হারিয়ে না যায় সকলের কাছে তার দাবি।
মিথিলার শিক্ষক যার অনুপ্রেরণায় মিথিলা আজ এখানে এসেছে সেই শিক্ষক সাজেদুর রহমান জানান, মিথিলার হাতেখড়ি তার হাতেই।মিথিলা শুধু খেলাধুলায় নয়, পড়াশোনাতেও মনোযোগী ও শৃঙ্খলাবান। সে গরীব ঘরের মেয়ে। সে যদি আর্থিক সহায়তা পায় তার জীবনটা এগিয়ে যাবে। সবাইকে তার পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান তিনি।
উপজেলা নিজেরা করি সংগঠনের কর্মী প্রতিমা রায় জানান, আমাদের বাগাতিপাড়ায় ৬টি ফুটবল টিম আছে। ৬টি টিম হতে তারা বিকেএসপি আবেদন করেন। তাদের বিকেএসপিতে পরীক্ষার জন্য তাদের উদ্যোগে রাজশাহীতে পরীক্ষার জন্য নিয়ে যান। তারা তাদের সংস্থা থেকে বাচ্চাদের বুট, জার্সি, কোচ সহ সকল সুবিধা প্রদান করে থাকেন। মিথিলা মহুয়া তাদের টিমের একজন সে বিকেএসপি তে সুেেযাগ পেয়েছেন। তবে তার ভর্তির জন্য অর্থের প্রয়োজন। সবাইকে মিথিলার স্বপ্নপূরণের জন্য মিথিলার পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান।
স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক ও প্রশিক্ষক শফিকুর রহমান বলেন, ফেন্সিং বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় একটি খেলা। গ্রামের একজন মেয়ের বিকেএসপিতে চান্স পাওয়া আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। মিথিলার গতি, মানসিক দৃঢ়তা ও ফিটনেস এই খেলায় খুবই উপযোগী। তিনি তার সফলতা কামনা করেন।

