

অতুল পাল, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: বাউফলে নিখোঁজের চারদিনের মাথায় আজ মঙ্গলবার বেলা ১০ টার দিকে তেতুঁলিয়া নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের বাতির খাল থেকে ভাসমান অবস্থায় মো. রাসেল খানের (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে কালাইয়া নৌ পুলিশ। গত ১১ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তেঁতুলিয়া নদী থেকে ইলিশ মাছ ক্রয় করে ট্রলারে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশ দেখে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিল রাসেল।
রাসেল উপজেলার নাজিরপুর-তাঁতেরকাঠী ইউনিয়নের বড় ডালিমা গ্রামের ইউসুফ খানের ছেলে। কালাইয়া বন্দরের ডালিমা ব্রিজের উত্তর পাড়ে রাসেল দর্জির দোকান দিয়ে ব্যবসা করতো। রাসেলের নাবালক এক ছেলে ও নাবালিকা এক মেয়ে রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ অক্টোবর সন্ধ্যার দিকে নিহত রাসেলসহ চারজন একটি ট্রলারে করে তেঁতুলিয়া নদীতে গিয়ে ৬০ পিস (১৫ হালি) ইলিশ মাছ ক্রয় করে সন্ধা সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বাড়ি ফিরছিল। ফেরার পথে ইলিশ রক্ষায় টহলরত নৌ পুলিশের একটি দল স্পীডবোট নিয়ে নদীতে যাচ্ছিল। ট্রলার দেখে পুলিশ চেক করার জন্য স্পীডবোটের গতি কমালে রাসেল ভয় পেয়ে তেঁতুলিয়া নদীতে ঝাঁপ দেয়। সাথে থাকা অপর দুইজন পাশ দিয়ে যাওয়া খেয়া পাড়াপাড়ের নৌকায় লাফ দিয়ে উঠে সটকে পড়ে।
ট্রলার চালক রাকিব জানায়, তিনি রাসেলকে খোঁজার জন্য পুলিশকে বারবার অনুরোধ করলেও পুলিশ গুরুত্ব না দিয়ে ও সাঁতরে উঠে যাবে বলে মন্তব্য করেন। কিন্তু অনেক খোঁজাখুঁজি করেও রাসেলকে পাওয়া যায়নি। আজ মঙ্গলবার বেলা ১০ টার দিকে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের তেতুঁলিয়া নদীর বাতির খালে স্থানীয়রা ভাসমান অবস্থায় মরদেহ দেখে রাসেলের স্বজনদের খবর দেয় এবং ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা লাশ সনাক্ত করেন। পরে নৌ পুলিশ রাসেলের মরদেহ উদ্ধার করে।
কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আল মামুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ মাছ ধরার দায়ে তাদের টহল টিম তেঁতুলিয়া নদীর চরওয়াডেল এলাকা থেকে মো. ইউনুস, মো. লোকমান ও মো. মোশারেফ নামের তিন জেলেকে আটকের পর এসআই মো.মনিরের নেতৃত্বে স্পিডবোটে করে পুলিশ ফাঁড়িতে পৌঁছে দিয়ে পুনরায় নদীতে ফিরছিলেন। তখন স্পিডবোট দেখে রাসেল নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হয়। পুলিশ স্পিডবোড থামিয়ে রাসেলকে উদ্ধারের চেষ্টা করে। তিনি আরও বলেন, রাসেলকে উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী ও নৌ পুলিশের একটি দল অনেক চেষ্টা করেছিল। আজ মঙ্গলবার সকালে তেঁতুলিয়া নদীর বাতির খাল এলাকায় স্থানীয়রা মরদেহটি দেখে আমাদেরকে খবর দেয়। আমরা গিয়ে লাশ উদ্ধার করি।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান সরকার জানান, এ ব্যাপারে বাউফল থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে।
