বাগেরহাট প্রতিনিধি: নতুন বই পেলেও বাড়ীতে ট্রান্সফমার চুরি হওয়ায় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়তে পারছিনা। একথা বলছিল বাগেরহাট সদরের গোটাপাড়া প্রামের তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্রী রুবাইয়া ইয়াছমিন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি এই গ্রাম থেকে পল্লী বিদ্যুতের ১০ কেফি ট্রান্সফমার গবার পর মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত সেখানে নতুন করে ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়নি। ফলে সন্ধ্যার পর থেকে গোট এলাকায় ভুতুরে অবস্থা বিরাজ করছে। একই ভারে গত পাঁচ মাসে জেলায় ২৫টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে।
বাগেরহাটে গত অক্টোবর মাসে তিনটি, নভেম্বরে পাঁচটি, ডিসেম্বরে ১০টি, জানুয়ারিতে পাঁচটি এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি পযর্ন্ত দুটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। চুরি হওয়া এসব ট্রান্সফরমার ৫ কেবিএ থেকে ৫০ কেবিএ পর্যন্ত, যার প্রতিটির মূল্য ৪২ হাজার থেকে ৬৮ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমারের একটিও উদ্ধার হয়নি।
বাগেরহাটে একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরির পর ওইসব গ্রামের কয়েক হাজার গ্রাহক দিনের পর দিন বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে। আর্থিক ক্ষতি আর ভোগান্তিও যেন শেষ নেই গ্রাহকদের। প্রথমবার চুরি হলে ট্রান্সফরমারের অর্ধেক মূল্য, দ্বিতীয়বার চুরি হলে ট্রান্সফরমারের সম্পূর্ণ মূল্য গ্রাহকদের তাঁদের পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা তাঁদের জন্য রীতিমতো জরিমানা। নতুন ট্রান্সফরমার পাওয়ার জন্য আবার গ্রাহককেই টাকা দিতে হচ্ছে। বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি পরিচালনা বোর্ডের সভাপতি মো. রোকন উজ্জামান খান জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায়াই ট্রান্সফরমার চুরির খবর আসছে। ট্রান্সফরমার চুরি হলে গ্রাহকরা বিদ্যুৎ বঞ্চিতের পাশাপাশি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভোগান্তির শিকার হন। গ্রাহকরা বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে নিয়মিত বিল পরিশোধ করে থাকেন। কিন্তু ট্রান্সফরমার চুরি হলে ওই ট্রান্সফরমারের মূল্য গ্রাহকদের দিতে হচ্ছে। এটাই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিয়ম বলে জানান তিনি।
বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সুশান্ত রায় জানান, ট্রান্সফরমার চুরির সাথে অবশ্যই দক্ষ লোক জড়িত। গত পাঁচ মাসে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সংযোগ চালু অবস্থায় ২৫টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। চোর বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে ট্রান্সফরমারের ঢাকনা খুলে তার মধ্য থেকে মূল্যেবান তামার তার চুরি করে নিয়ে যায়। আর ট্রান্সফরমারের বক্স ও তার মধ্যে থাকা অয়েল ও লোহার পাত ফেলে যায়। প্রতিটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় থানায় এজাহার করা হয়েছে কিন্তু একটি ট্রান্সফরমারও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. তৌহিদুল আরিফ জানান, ট্রান্সফরমার চুরি একটি জটিল বিষয়। প্রতন্ত অঞ্চলে থাকা এসব ট্রান্সফরমারের কোনো প্রটেকশন নেই। ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এরই মধ্যে সাতজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া কিছু ক্লু নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।