ঢাকা
২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
বিকাল ৫:৩৮
logo
প্রকাশিত : ডিসেম্বর ১৩, ২০২৪

ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়ন ছাড়া দুঃখী অনাহারী মানুষের ভাগ্যের বদল হবে না: মিয়া গোলাম পরওয়ার

গাজীপুর প্রতিনিধি: বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়ন ছাড়া দুঃখী অনাহারী মানুষের ভাগ্যের বদল হবে না। তাই ইসলামী শ্রমনীতি কায়েম করতে হবে। এই নীতিতে শ্রমিক মালিক দ্বন্দ্ব নয় শক্রতা নয়, মালিকের খেতে পড়তে যে পরিমান খরচ হয় একজন শ্রমিককে সেই পরিমান মজুরি দিতে হবে। ইসলামী দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং শ্রমনীতির সংগ্রাম এক ও অভিন্ন। ইসলামী দ্বীন প্রতিষ্ঠা ছাড়া ইসলামী শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না। ছাত্র আন্দোলন যেমন একটি নতুন বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছে তেমনি শ্রমিকদের এই বিশাল বিপ্লবী আন্দোলন আরেকটি নতুন বাংলাদেশের জন্ম দিবে, সেই বাংলাদেশ হবে একটি নতুন কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের বাংলাদেশ।

গাজীপুর মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়াম হলে শুক্রবার অনুষ্ঠিত দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রায় দেড় হাজার কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে নির্বাচন পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও ঢাকা উত্তর অঞ্চলের পরিচালক মনসুর রহমান। এতে ২০২৫-২৬ সেশনের জন্য গাজীপুর মহানগরীর সভাপতি নির্বাচিত হন হোসেন আলী এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ফারদিন হাসান হাসিব।

ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগর শাখার নবনির্বাচিত সভাপতি হোসেন আলীর সভাপতিত্বে ও নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ফারদিন হাসান হাসিবের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন গাজীপুর মহানগরের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক জামাল উদ্দিন।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন গাজীপুর মহানগরীর উপদেষ্টা জনাব খায়রুল হাসান, আ.স.ম ফারুক, ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক মুহিবুল্লাহ, মহানগরীর উপদেষ্টা আফজাল হোসেন, ছাত্রশিবির তামীরুল মিল্লাত মাদ্রাসা সভাপতি ও ভিপি আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ এবং মহানগরীর নির্বাহী পরিষদ সদস্যবৃন্দ ও থানা-সেক্টর নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, সকল কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন করার অবাধ অধিকার দিতে হবে। একসময় ট্রেড ইউনিয়ন ছিল স্কুল অব কম্যুনিজম। অবশেষে ইসলামী আদর্শ বিশ্বাসী কিংবদন্তি দুই শ্রমিকনেতা ব্যারিস্টার কুরবান আলী ও ব্যরিস্টার আখতার উদ্দিন শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম শুরু করেন। আর ট্রেড ইউনিয়নে নতুন ধারা তৈরি হলো। ট্রেড ইউনিয়নকে স্কুল অব ইসলামে পরিণত করার চেষ্টা শুরু করেছেন আমাদের পূর্ববর্তী নেতারা। আজকে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ট্রেড ইউনিয়ন নিয়ে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সর্ববৃহৎ শ্রমিক সংগঠন। আমাদের পূর্বসুরীরা যে পতাকা আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন, সেটা বিজয়ী না হওয়া পর্যন্ত আমাদের পথচলা থামবে না। আজকে শিল্প নগরী গাজীপুরের শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন। অতএব, শ্রমিকদের সকল ন্যায্য অধিকার আদায়ে শ্রমিক কল্যাণকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। শ্রমিকদের মাঝে বেতন-বৈষম্য দূর করতে হবে। রাসূল সা. শ্রমিকদের বেতনের স্টান্ডার্ন্ড ঠিক করে দিয়েছেন। আর তা হলো, মালিক যা খাবে, যা পড়বে, সেই সমমানের খাওয়া-পড়ার ব্যবস্থা শ্রমিকদেরও করতে হবে।

নারী শ্রমিকরা আজ দাবি জানিয়েছেন, প্রত্যেক কলকারখানা ও শ্রম অঙ্গনে নারীদের নামাজের আলাদা জায়গার ব্যবস্থা করা।
এছাড়াও পাশের দেশের সরকার ও সরকারি দলের নেতারা বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে কথা বলে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। আমাদের অভিন্ন নদীসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারা আমাদের অধিকারে হস্তক্ষেপ করছে। আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারকে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্বশীলদের আমরা বলছি, সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো অপশক্তি ও আধিপত্যবাদীর চোখ রাঙানিকে আপনারা ভয় পাবেন না। সারা দেশের মুক্তিকামী মানুষ আপনাদের সাথে আছে। একটি গ্রহণযোগ্য সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে কাজ করতে হবে। নতুন বাংলাদেশ নির্মাণে আজকের এই সম্মেলন ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ বলেন, শ্রমিক-মালিক পরিচয়ের ভিত্তিতে আল্লাহর কাছে মর্যাদা নিরুপিত হয় না। বরং তাকওয়ার মাধ্যমে মর্যাদা নিরুপিত হয়। সুতরাং তাকওয়া অর্জনে আমাদের অগ্রণী হতে হবে। আমরা আজ শ্রদ্ধা জানাচ্ছি গাজীপুরের শহিদ রুহুল আমিনের প্রতি। আমরা দাবি জানাচ্ছি, ২০০৬ সালের অক্টোবরে শহীদ রুহুল আমিন ভাইয়ের খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। শিল্প নগরী গাজীপুরের শ্রমিকজনতার প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি, আজকে নির্বাচিত নতুন নেতৃত্বের প্রতি আপনারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হারুনুর রশিদ খান বলেন, ইসলামী শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান সকল শ্রমিকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ক্ষুধার্ত, বস্ত্রহীন মানুষদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামী শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। তাই শ্রমিকজনতাকে ইসলামী শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

বিশেষ অতিথি অধ্যপক জামাল উদ্দিন বলেন, শ্রমিক-কর্মচারী ভাই-বন্ধুরা আগষ্টের গণ-আন্দোলনে রাজপথে দুর্বার ভূমিকা রেখেছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বাংলাদেশে বেতন ও আয়ের বৈষম্য আমরা আর সহ্য করব না। অতএব, শ্রমিকদের হিস্যা ঠিক রেখে নতুন বেতনকাঠামো পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। শ্রমিক পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ভোটচোর, ডাকাত ও খুনীদের আর ফেরত আসতে দেওয়া হবে না। আগামী দিনে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করার জন্য অবিরাম সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।

logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram