

বঙ্গোপসাগরে টেকসই ব্লু ইকোনমি বিকাশ এবং সমুদ্র শাসনব্যবস্থার উন্নয়নে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে কর্মশালার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেরিটাইম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিমরাড)।
অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস ফেলোশিপ ২০২৬-এর আওতায় ঢাকায় বিমরাডের সেমিনার হলে ‘Enabling a Sustainable Blue Economy in the Bay of Bengal (Indian Ocean)’ শীর্ষক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান ও বিমরাডের প্রধান পৃষ্ঠপোষক অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাইকমিশনার। এ ছাড়া বিমরাডের চেয়ারম্যান, অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব উলংগংয়ের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। কর্মশালায় বিভিন্ন দেশের ১৫ জন ফেলো অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় টেকসই ব্লু ইকোনমি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সমুদ্র শাসনব্যবস্থা, সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌবাহিনী প্রধান জ্ঞান বিনিময় এবং অর্জিত জ্ঞান বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ ধরনের ফেলোশিপ আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে উল্লেখ করে তিনি অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে অর্জিত জ্ঞান ও পেশাগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই ব্লু ইকোনমি বিকাশে অবদান রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যবিষয়ক বিভাগ পরিচালিত এ ফেলোশিপের আয়োজন করে ইউনিভার্সিটি অব উলংগংয়ের অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান রিসোর্সেস অ্যান্ড সিকিউরিটি (ANCORS)।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা যৌথ গবেষণা, নীতিনির্ধারণ এবং সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র চিহ্নিত করার সুযোগ পান। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মধ্যে পেশাগত যোগাযোগ বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং অভিন্ন সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অর্জিত জ্ঞানের কার্যকর প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক সম্পদ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে টেকসই উন্নয়নে কাজে লাগাতে আঞ্চলিক অংশীদারত্ব, কার্যকর সমুদ্র শাসনব্যবস্থা এবং সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিমরাড। এ ধরনের উদ্যোগ সামুদ্রিক গবেষণা, নীতিনির্ধারণ ও আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
