

মো. শহীদুল হক: বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল এবং জনবহুল অর্থনীতির একটি দেশ। গত কয়েক বছরে দেশটি ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের নামমাত্র (Nominal) জিডিপির পরিমাণ প্রায় ৫১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশটিকে বিশ্বের ৩৬তম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত করেছে। অন্যদিকে, ক্রয়ক্ষমতা সমতা (Purchasing Power Parity-PPP) অনুযায়ী বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার প্রায় ১.৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বিশ্বে ২৫তম স্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের মাথাপিছু আয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার এবং উল্লেখযোগ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
বাংলাদেশ সরকার দেশের সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন খাতে ধারাবাহিকভাবে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল, নৌপরিবহন, বিমান চলাচল, শিল্প ও বাণিজ্য, আবাসন, কৃষি, খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য বহু খাতে বিনিয়োগের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বৃহৎ অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থায়ন যথাযথভাবে ব্যবহার ও চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পরিশোধের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের একটি সফল ও নির্ভরযোগ্য রেকর্ড রয়েছে।
এই সম্ভাবনা ও সক্ষমতাকে বিবেচনায় নিয়ে আবুধাবিভিত্তিক বিনিয়োগ ও প্রকল্প অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান EQUILINE FINANCE বাংলাদেশকে তাদের অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে নির্বাচন করেছে।
EQUILINE FINANCE বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং সরকারি সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে সরকারের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলো চিহ্নিত করতে আগ্রহী। প্রকল্প নির্বাচন শেষে প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ করবে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সম্ভাব্যতা (Feasibility) সমীক্ষা পরিচালনা করবে। কোনো প্রকল্প প্রযুক্তিগত, বাণিজ্যিক এবং আর্থিকভাবে বাস্তবসম্মত প্রমাণিত হলে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সর্বোত্তম বিনিয়োগ কাঠামো, অর্থায়ন পদ্ধতি এবং বাণিজ্যিক শর্তাবলি নির্ধারণ করা হবে।
বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকার ও পরিকল্পনার ভিত্তিতে EQUILINE FINANCE প্রাথমিকভাবে ২ থেকে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও উচ্চ-প্রভাবসম্পন্ন প্রকল্প চিহ্নিত হলে প্রতিষ্ঠানটি এই বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করতে প্রস্তুত রয়েছে।
বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে EQUILINE FINANCE-এর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বে কাজ করতে আগ্রহী এবং এ বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত নমনীয়। বিশেষ করে সরকারি গ্যারান্টি (Government Guarantee), পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) এবং অফ-টেক (Off-take) Agreement কাঠামোর আওতায় প্রকল্পে অংশগ্রহণে তারা বিশেষ আগ্রহী। একই সঙ্গে, বেসরকারি খাতের প্রকল্পেও অর্থায়নের আগ্রহ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
EQUILINE FINANCE বাংলাদেশ সরকারের কাছে নিম্নোক্ত অগ্রাধিকার খাতসমূহে একটি বিস্তৃত বিনিয়োগ প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে—
* বিভিন্ন ধরনের নবায়নযোগ্য জ্বালানি (Renewable Energy) প্রকল্পে বিনিয়োগ।
* কৌশলগত জ্বালানি সংরক্ষণ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এনার্জি হাব (Energy Hub) স্থাপন।
* প্রস্তাবিত ক্লিন ঢাকা প্রকল্পের আওতায় বৈদ্যুতিক বাস (Electric Bus) খাতে বিনিয়োগ।
* বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, জৈব সার এবং বায়োগ্যাস উৎপাদনসহ ওয়েস্ট-টু-এনার্জি (Waste-to-Energy) প্রকল্প।
* বর্জ্যপানি শোধনাগার (Wastewater Treatment Plant)সহ পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প।
* মাঝারি ও বৃহৎ আকারের যন্ত্রপাতি এবং লজিস্টিক অবকাঠামো সরবরাহের মাধ্যমে সমুদ্রবন্দর, পৌরসভা ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন।
* দেশের জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে আধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা, আইসিইউ (ICU), সিসিইউ (CCU), ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং নবজাতক পরিচর্যার ইনকিউবেটর স্থাপনসহ সরকারি হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি।
* বহুমুখী কোল্ড স্টোরেজ ও শস্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ, মাছ ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপন এবং দুগ্ধ খামার উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষি ও মৎস্য খাতের আধুনিকায়ন এবং রপ্তানি বৃদ্ধি।
* দেশের নির্বাচিত অঞ্চলে পর্যটন শিল্প বিকাশে হোটেল ও বিনোদন পার্কে বিনিয়োগ, পাশাপাশি ঢাকা চিড়িয়াখানা ও সাফারি পার্কের আধুনিকায়ন।
* ডেটা সেন্টার ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উন্নয়ন।
* মিথানল উৎপাদন এবং অন্যান্য রাসায়নিক শিল্পে বিনিয়োগ।
ফ্যামিনাস ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মি. সালাহ আল নাসের বলেন, তিনি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নযাত্রার অংশীদার হতে এবং দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে আগ্রহী। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ফ্যামিনাস ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা (Chief Investment Officer) মি. রানাদিল মিজান।
