ঢাকা
১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ১১:৪১
logo
প্রকাশিত : জুন ১৪, ২০২৬

আয় লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকই অধরা

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বেশির ভাগ আন্ত নগর ও লোকাল মেইল ট্রেনে লোকসান হচ্ছে। আয়ের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় অর্ধেকই অর্জিত হচ্ছে না।

এ ছাড়া টিকিটবিহীন যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা টাকার বেশির ভাগ চলে যাচ্ছে ট্রেনের দায়িত্বরতদের পকেটে। বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমাঞ্চল থেকে চলাচলকারী ৬৮টি ট্রেনের মধ্যে ১২টি কোনোমতে লাভের মুখ দেখছে। অন্য ট্রেনগুলোর আয় পরিচালন ব্যয়ের তুলনায় কম। এ অবস্থায় আরো ১১টি ট্রেন বেসরকারীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আনসার আলী বলেন, ‘টিকিট থেকে আমরা পর্যাপ্ত আয় করতে পারছি না। বিশেষ করে লোকাল ও মেইল ট্রেনগুলোতে যাত্রীরা টিকিট কাটতেই চায় না। ফলে আরো ১১টি ট্রেন বেসরকারীকরণের উদ্যোগ নিয়েছি।

’বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র জানায়, যাত্রীর চাহিদা বেশি থাকা ঢাকা-রাজশাহী ও ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী-খুলনা রুটের ১২টি ট্রেন লাভজনক অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে পদ্মা, সিল্কসিটি, ধূমকেতু, বনলতা, সাগরদাড়ি ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস উল্লেখযোগ্য। কিন্তু মেইল ও কমিউটার ট্রেনগুলোতে দিনের পর দিন লোকসান গুনতে হচ্ছে। স্বল্প ভাড়া এবং পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বেশির ভাগ ট্রেন লোকসানে চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ, জনবল ও অবকাঠামোগত ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক ট্রেনের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

রেলওয়ে শুধু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি জনসেবামূলক পরিবহনব্যবস্থা। তাই কিছু ট্রেন লোকসানে চললেও আঞ্চলিক যোগাযোগ ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের স্বার্থে সেগুলো চালু রাখা হচ্ছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের আওতায় মোট ৬৮টি ট্রেন চলাচল করছে। এর মধ্যে ৩২টি আন্ত জেলা ও ৩০টি আন্ত নগর ট্রেন। আন্ত নগর ট্রেনগুলো পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে চলাচল করে। আন্ত জেলা ট্রেনগুলো চলাচল করে পশ্চিমাঞ্চল-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে। এ ছাড়া রয়েছে ছয়টি আন্ত নগর কমিউটার ট্রেন।

রেলওয়ের সূত্র মতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৮২৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। সেখানে এপ্রিল পর্যন্ত আয় হয়েছে ৫৬৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় এক হাজার ১৫৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। সেখানে আয় হয় ৬২১ কোটি ৩১ লাখ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে ট্রেনে যাত্রী ও মালপত্র পরিবহন থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় এক হাজার ৩৭৭ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। সেখানে আয় হয় ৬৪৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। জানা গেছে, মেইল ও লোকাল ট্রেনগুলোতে বিপুলসংখ্যক যাত্রী উঠলেও তাদের বেশির ভাগই টিকিট কাটে না। আবার টিকিট চেক করার জন্য ট্রেনে যাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাঁরা যাত্রীদের কাছ থেকে যে টাকা আদায় করেন, সেই টাকাও সম্পূর্ণ জমা দেন না। ফলে দিনের পর দিন এই ট্রেনগুলো লোকসান গুনছে। এই ট্রেনগুলোর মধ্যে আরো ১১টি ট্রেন বেসরকারি খাতে ইজারা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, আন্ত নগর ও আন্ত জেলা ট্রেনেও বিপুল পরিমাণ যাত্রী প্রতিদিন টিকিটবিহীন যাতায়াত করছে। সেখান থেকেও আয়ের একটি অংশ চলে যায় টিকিট চেকারদের পকেটে। ফলে কোনো কোনো বছরে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও আয় হচ্ছে না।

গত ৪ জুন ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া বনলতা এক্সপ্রেস রাজশাহী গিয়ে থামে। ওই সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী বিপুলসংখ্যক যাত্রী ওঠে টিকিট ছাড়াই। পরে ওই ট্রেনে অভিযান চালিয়ে জরিমানাসহ প্রায় ৬০ হাজার টাকা আদায় করেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা।

সূত্রটির মতে, শুধু রাজশাহী-রহনপুর ও রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী ট্রেনে যাত্রীরা টিকিট কেটে যাতায়াত করলে প্রতি মাসে অন্তত ১৫-১৬ লাখ টাকা বেশি আয় হবে।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram