

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় অসুস্থতার ভান করে যাত্রীদের স্বজনদের ফাঁদে ফেলা অজ্ঞান পার্টির মূলহোতা মো. তাজুল ইসলামকে (৪৮) আটক করেছে এয়ারপোর্ট ১৩ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুরের একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে ৫৫টি চোরাই মোবাইল ফোন, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও চেতনানাশক ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) আসামির বিরুদ্ধে ঢাকা বিমানবন্দর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এপিবিএন সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মে আরাফাত হোসেন (১৯) নামের এক তরুণ তার খালাতো ভাইকে বিদায় জানাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন। ডিপার্চার এলাকায় অবস্থানকালে তাজুল ইসলাম কৌশলে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। একপর্যায়ে সরল বিশ্বাসে তাজুলের দেওয়া কফি পান করার পরপরই অজ্ঞান হয়ে পড়েন আরাফাত।
ঘটনাটি এপিবিএন সদস্যদের নজরে এলে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তাজুলকে আটক করা হয়। এ সময় তার ব্যাগ ও দেহ তল্লাশি করে ভুক্তভোগীর দুটি মোবাইল ফোন, কিছু নগদ টাকা এবং ১৫ পিস চেতনানাশক ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাজুল ইসলাম জানান, তিনি ও তার সহযোগীরা বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও বিমানবন্দর এলাকায় যাত্রীদের টার্গেট করতেন। প্রথমে কথাবার্তার মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে পরে চা, কফি বা কোমল পানীয়ের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে ভুক্তভোগীদের অজ্ঞান করে মালামাল হাতিয়ে নিতেন। সন্দেহ এড়াতে তারা কখনও অসুস্থ বা শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তির অভিনয়ও করতেন।
তাজুল আরও জানান, ৪ থেকে ৫ জনের একটি চক্র মিলে তারা এই অপরাধ সিন্ডিকেট পরিচালনা করতেন। চোরাই মালামাল মিরপুরের দারুসসালাম এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে জমা রাখা হতো।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এয়ারপোর্ট ১৩ এপিবিএন-এর সহকারী পুলিশ সুপার ফাউজুল কবীর মঈনের নেতৃত্বে একটি দল দারুসসালামের ওই হোটেলে বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় ৫৫টি বিভিন্ন মডেলের মোবাইল ফোন, ১০টি এয়ারবার্ড হেডফোন, ১৫টি হাতঘড়ি, ৪ পিস চেতনানাশক ট্যাবলেট, ২টি চেতনানাশক পুরিয়া, নগদ ২ লাখ ২৩ হাজার টাকা, সৌদি আরবের ৫৩ দশমিক ৫০ রিয়াল, তুরস্কের ১ লিরাসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট ১৩ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রেজাউল কবির বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা রোধ, চোরাচালান বন্ধ এবং অন্যান্য অপরাধ দমনে এপিবিএন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সাধারণ যাত্রী ও তাদের স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

