

পবিত্র ঈদুল আজহায় সামর্থ্যবান মুসলমানদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব। তবে ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী কিছু ভুল ও ত্রুটির কারণে কোরবানি আল্লাহর দরবারে কবুল নাও হতে পারে।
প্রাপ্তবয়স্ক, জ্ঞানসম্পন্ন ও নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে কোরবানি করা আবশ্যক। অর্থাৎ সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা কিংবা তার সমমূল্যের সম্পদ থাকলে কোরবানি দিতে হয়।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—
“আল্লাহর কাছে পৌঁছে না এগুলোর (কোরবানির পশুর) গোশত ও রক্ত, বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।” (সুরা হজ, আয়াত: ৩৭)
হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“প্রত্যেক কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী ফল পাবে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ০১)
ইসলামি ব্যাখ্যায় কোরবানি কবুল না হওয়ার প্রধানত তিনটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে—
প্রথমত, নিয়ত শুদ্ধ না হওয়া:
কোরবানি অবশ্যই একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হতে হবে। লোক দেখানো বা শুধু গোশত খাওয়ার উদ্দেশ্যে কোরবানি করলে তা কবুল হয় না। কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ কেবল মুত্তাকীদের কোরবানি গ্রহণ করেন। (সুরা মায়েদা, আয়াত: ২৭)
দ্বিতীয়ত, হারাম উপার্জন:
ইসলামে হালাল উপার্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হারাম অর্থে পশু কিনে কোরবানি করলে তা আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য নয়। কোরআনে বলা হয়েছে—
“হে মুমিনগণ, আমি তোমাদের যে হালাল রিজিক দিয়েছি তা থেকে আহার করো।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৭২)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ পবিত্র এবং তিনি কেবল পবিত্র জিনিসই গ্রহণ করেন।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২২৩৬)
তৃতীয়ত, ত্রুটিপূর্ণ পশু দিয়ে কোরবানি:
কোরবানির পশু সুস্থ ও নির্দোষ হতে হবে। কানা, খোঁড়া, গুরুতর অসুস্থ বা অতিশয় দুর্বল পশু দিয়ে কোরবানি করলে তা শুদ্ধ হয় না। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ১৫০৩)
হাদিসে বলা হয়েছে, স্পষ্ট খোঁড়া, স্পষ্ট কানা, গুরুতর অসুস্থ এবং অতি দুর্বল পশুর কোরবানি গ্রহণযোগ্য নয়।
তাই কোরবানির সময় নিয়ত, উপার্জন এবং পশুর মান—এই তিন বিষয়ে সতর্ক থাকাকে ইসলাম বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে।

