

এম. এ. জলিল সরকার, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: ভূমিহীন, অসহায় ও দুঃখী মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার আবাসন ও আশ্রয়ণ প্রকল্প চালু করেছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন পরিবারগুলোকে বসবাসের জন্য ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। পার্বতীপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নেও রয়েছে এমন আবাসন প্রকল্প।
এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের বড় রামচন্দ্রপুর এলাকায় সরকার একটি আবাসন প্রকল্প নির্মাণ করে। সেখানে প্রায় ৮০টি পরিবারকে বসবাসের জন্য ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব পরিবারের মধ্যে মুসলিম, হিন্দু ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন। তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করে আসছেন।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, আবাসনের ভেতরে কিছু ব্যক্তি হাট-বাজার বসিয়েছেন। সপ্তাহে রোববার ও বুধবার হাট বসে এবং প্রতিদিনই সেখানে বাজারের কার্যক্রম চলে। এতে আবাসনের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। হাটের দিন দূরদূরান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। ফলে আবাসনের নারীদের চলাচলে অসুবিধা সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও পর্দা রক্ষার ক্ষেত্রেও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাঁদের। এতে সামাজিক মর্যাদা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আবাসনের বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে আবাসনবাসীর পক্ষে সফিউল ইসলামসহ ৮০ জন বাসিন্দার স্বাক্ষরসংবলিত একটি লিখিত আবেদন পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর জমা দেওয়া হয়েছে। আবেদনে আবাসনের ভেতর থেকে হাট-বাজারটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে পার্শ্ববর্তী উপযুক্ত স্থানে স্থানান্তরের দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনকারীরা জানান, আবাসনের সভাপতি মমিনুল ইসলামকে বিষয়টি একাধিকবার অবহিত করা হলেও হাট-বাজার স্থানান্তরের বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে তাঁরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে আবাসনের নারী-পুরুষ ও বয়স্ক বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা জানান, আমরা ভূমিহীন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষ। আমাদেরও মানসম্মান ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রয়েছে। এ অবস্থায় আবাসনের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টি বিবেচনা করে হাট-বাজারটি অন্যত্র স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
