

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর ভেতরে রাজু নামে এক বন্দির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে কারাগারের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তবে এটি আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহত রাজু পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাওলাগঞ্জ এলাকার আয়নাল হকের ছেলে বলে জানা গেছে।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে তাঁকে কারাগারের ভেতরে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখেন সংশ্লিষ্টরা। পরে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
কারাগারের মতো নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থানে একজন বন্দি কীভাবে গলায় ফাঁস দেয়ার সরঞ্জাম পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বন্দি আসামি কিংবা সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি-যে পরিচয়েই থাকুন না কেন, তাঁদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও তদারকির দায়িত্ব কারা কর্তৃপক্ষের। ফলে কারাগারের ভেতরে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল, ব্যবহৃত সরঞ্জাম কোথা থেকে এল এবং দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. সোহেল রানা জানান, কারাগারের ভেতরে গলায় ফাঁস দিয়ে একজন বন্দির মৃত্যুর খবর তিনি পেয়েছেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত ও ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, কারা কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে। এরপর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে।
এ ঘটনায় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেল সুপার ও জেলার এর বক্তব্য জানতে তাঁদের সরকারি মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও ম্যাজিস্ট্রেটের সুরতহাল প্রতিবেদনের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের পাশাপাশি কারাগারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থা ও তদারকির বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আসবে কি না, এখন সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
