

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের বীর পশ্চিমপাড়া এলাকায় বাথরুমের আবর্জনার স্তপে মেয়াদ উর্ত্তীণ ‘সরকারি ওষুধ’ খুঁজে পেয়েছে এলাকাবাসী। এছাড়াও আশপাশের পুকুরপাড়সহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে এসব ওষুধ। এলাকাবাসী ধারণা, বীর পশ্চিমপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের ওষুধ সাধারণ মানুষকে না দেয়ার ফলে পড়ে থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ঝোপ-ঝাড়ে ফেলে দিয়েছে। এ ঘটনা তদন্তে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ৩ সদস্যের তদন্ত টিম করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. দিবাকর ভাট জানান, গতকাল গণমাধ্যমকর্মীর মাধ্যমে বীর পশ্চিমপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের পার্শ্ববর্তী এলাকায় মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ পাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এর প্রেক্ষিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (এনেসথেসিয়া) ডা. মো. কামরুল হাসানকে সভাপতি ও সহকারী ডেন্টাল সার্জন ডা. মো. মনিরুজ্জামানকে সদস্য সচিব করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটির অপর সদস্য হলেন স্বাস্থ্য পরিদর্শক (ইনচার্জ) বদরুন্নাহার। ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বুধবার বিকেলে বীর পশ্চিমপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশে চান মিয়ার বাড়ির বাথরুমের আবর্জনা স্তুপে পলিথিনে মোড়ানো কিছু ওষুধ দেখতে পান। বিষয়টি আশপাশের লোকজন জানতে পেরে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। এসময় পার্শ্ববর্তী একটি পুকুরপাড়ে কিছু মেয়াদ উর্ত্তীণ ওষুধ দেখা যায়।
এ ক্লিনিক থেকেও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষুধ বিতরণের সত্যতা নিশ্চিত করেন সাবেক ইউপি মেম্বার ও ক্লিনিকের সভাপতি মাজেদা খাতুন। তিনি জানান, এসব সরকারি ঔষুধ মানুষকে না দিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ করা হয়েছে। বিষয়টি আমাকে আগে জানানো হয়নি।
বীর পশ্চিমপাড়ার মুসলেম উদ্দিনের পুত্র লাল মিয়া জানান, ক্লিনিক খোলে ১২-১টার পর, সাগর আসে আর যায়। ওষুধ দিবে কখন? একই গ্রামের নেকবর আলী জানান, আমাদেরকে ওষুধ না দিয়ে এ ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ করা হয়েছে। সুরুজ আলী জানান, কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দেয়া হচ্ছে। আমার ছেলেকেও দিয়েছে। অনুরূপ অভিযোগ করেন বীর পশ্চিমপাড়ার আবুল কাসেম, আব্দুল জব্বার।
এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে বীর পশ্চিমপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি মোস্তাফিজুর রহমান আকন্দ সাগর জানায়, আমার এ কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ কোনো ওষুধ দেয়া হয়নি। এসব ষড়যন্ত্র! সিএইচসিপি মাজহারুল ইসলাম এখানে ষড়যন্ত্র করছে।
এ প্রসঙ্গে সিএইচসিপি মাজহারুল ইসলাম জানান, আমি ওই এলাকা থেকে চলে আসছি ২০২৩ সনে। যেখানে আমি অনুপস্থিত সেখানে আমাকে জড়ানো মানে নিজের দোষ আড়াল করার চেষ্টা। সাগরকে এর আগেও একই ঘটনার জন্য অন্য উপজেলায় বদলি করে দিয়েছিলো কর্তৃপক্ষ।
