

মোঃ শহীদুল হক, ব্যাংকক (থাইল্যান্ড) থেকে: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহযোগিতা ও সমর্থন দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় (ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট)। এমনটাই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক ও ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একমত হয়েছে যে, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে বর্তমান সরকার। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব। তবে এসব সংকট মোকাবিলা ও সমাধানে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এসব সহযোগিতার বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ঋণ ব্যবস্থাপনা ও বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশের প্রত্যাশিত সহযোগিতার বিষয়ে তিতুমীর বলেন, অতীতে দেশটির কাছ থেকে বাংলাদেশ তেমন কিছু পায়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক যেভাবে এগিয়েছে, তাতে বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা পাওয়া উচিত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজ কেনার পাশাপাশি সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করছে। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রত্যাশিত। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষও একমত হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে কী ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানাননি তিতুমীর।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, ঋণ ব্যবস্থাপনা জোরদার করা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে সহযোগিতার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, সহায়তার ধরন কিংবা পরিমাণ সম্পর্কে বৈঠক-পরবর্তী বক্তব্যে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
এদিকে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের তৃতীয় দিনে গ্লোবাল পলিসি এজেন্ডা প্রেস ব্রিফিংয়ে আইএমএফ প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্থাটির কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে সহায়তা তিন গুণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
জর্জিয়েভা আরও বলেন, করোনা মহামারির পর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিশ্ব অর্থনীতি বড় সংকটের মুখে পড়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি নতুন করে সংকট তৈরি করেছে জ্বালানির অনিশ্চয়তা। অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আগেই রাজস্ব আয় বাড়ানো, সরকারি ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের ওপর জোর দেন তিনি।
এ ছাড়া জ্বালানি ও খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপে থাকা জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে সুনির্দিষ্ট ও সাময়িক সহায়তা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আইএমএফ প্রধান।
