ঢাকা
logo
প্রকাশিত : October 13, 2026

বিদেশি বিনিয়োগ পেতে আর্থিক শৃঙ্খলা ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ার পরামর্শ আইএমএফের

মোঃ শহীদুল হক, (ব্যাংকক) থাইল্যান্ড থেকে: স্বল্পোন্নত আয়ের দেশগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে টেকসই সরকারি অর্থব্যবস্থা, আর্থিক শৃঙ্খলা ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

আই এম এফ এর গবেষণা বলছে, এসব ক্ষেত্রে উন্নতি হলে শুধু প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ার সম্ভাবনাই তৈরি হয় না, বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকারের দেওয়া প্রণোদনাও কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে আর্থিক শৃঙ্খলার পাশাপাশি সুশাসন, নীতির ধারাবাহিকতা ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য।

সংস্থাটির গবেষণা বিভাগের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ এবং ২০২৬ সালের Macroeconomic Developments and Prospects in Low-Income Countries প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, স্বল্প আয়ের দেশগুলো বর্তমানে অনিশ্চিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ঋণ পরিশোধের বাড়তি চাপ, বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়া এবং অর্থায়নের কঠিন শর্তের মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে কাঠামোগত সংস্কার জরুরি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বল্প আয়ের দেশগুলোর (এলআইসি) অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের ৪ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৫ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। তবে প্রবৃদ্ধির এ সম্ভাবনা থাকলেও অনেক দেশে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির গতি দুর্বল, ঋণ পরিশোধের চাপ বেশি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সীমিত এবং অর্থায়নের সুযোগ সংকুচিত রয়েছে।

এ অবস্থায় শুধু কর ছাড় বা বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছে আইএমএফ। বরং সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং সরকারি অর্থ ও ঋণ ব্যবস্থাপনা উন্নত করার ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

আইএমএফের ফিসক্যাল অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের ইসাবেলা দুয়ার্তে বলেন, তাঁদের গবেষণায় আর্থিক শৃঙ্খলা ও শক্তিশালী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের ইতিবাচক সম্পর্ক দেখা গেছে। নীতিনির্ধারকেরা এসব ক্ষেত্রে উন্নতি ঘটাতে পারলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ বাড়তে পারে।

তাঁর মতে, স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য টেকসই সরকারি অর্থব্যবস্থা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব উদ্যোগ শুধু বেশি বিদেশি বিনিয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রণোদনাকে কার্যকর করার সম্ভাবনাও বাড়ায়।

ইসাবেলা দুয়ার্তে ব্যাখ্যা করেন, গবেষণাটি বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আর্থিক শৃঙ্খলা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও বিদেশি বিনিয়োগের মধ্যকার সামগ্রিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেছে। তবে কোনো দেশের জন্য কোন সংস্কার সবচেয়ে কার্যকর হবে, তা নির্ধারণে সেই দেশের বাস্তব পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আইএমএফের কারিগরি সহায়তা, নীতিগত পরামর্শ এবং সদস্যদেশগুলোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আইএমএফের গবেষণাটি সরাসরি সংস্থাটির ঋণ কর্মসূচির নকশা কিংবা এসব কর্মসূচির প্রভাব মূল্যায়নের জন্য পরিচালিত হয়নি। তবে গবেষণার ফলাফল আইএমএফের দেশভিত্তিক দলগুলোকে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সংস্কার নির্ধারণে সহায়তা করতে পারে বলে জানান দুয়ার্তে।

তিনি বলেন, আইএমএফের কর্মসূচিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার বিষয়টি প্রায়ই অন্তর্ভুক্ত থাকে। এর পাশাপাশি সংস্থাটির কারিগরি সহায়তা ও নীতিগত পরামর্শের মাধ্যমেও দেশগুলোকে আর্থিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করার বিষয়ে সহায়তা করা হয়। আইএমএফের আর্টিকেল ফোর পরামর্শ কার্যক্রমের মাধ্যমে সদস্যদেশগুলোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও নীতিগত চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনা করা হয়। এসব কার্যক্রমের আওতায় দেশভিত্তিক সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত সংস্কার চিহ্নিত করা এবং সেগুলো বাস্তবায়নে সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ইসাবেলা দুয়ার্তের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সাধারণ ধারণা পাওয়া গেলেও বাস্তবে কোন সংস্কার কীভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, তা নির্ধারণে দেশটির নিজস্ব পরিস্থিতি বুঝতে হবে। এ কারণে গবেষণার ফলাফলের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও দেশভিত্তিক নীতিগত পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ।

আলোচনায় সোমালিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি কামাল গুতালি প্রশ্ন তোলেন, সংঘাতপ্রবণ ও ভঙ্গুর রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়টি গবেষণায় আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়েছে কি না।

তিনি বলেন, স্বল্প আয়ের সব দেশের পরিস্থিতি এক নয়। ভঙ্গুর ও সংঘাত-আক্রান্ত দেশগুলোতে বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতার পাশাপাশি শান্তি, নিরাপত্তা ও সংঘাতের মতো বিষয়ও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সোমালিয়ার মতো দেশগুলোর জন্য শুধু আর্থিক শৃঙ্খলা বা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার যথেষ্ট কি না, তা জানতে চান তিনি।

জবাবে দুয়ার্তে জানান, তাঁদের গবেষণায় ভঙ্গুর রাষ্ট্রগুলোকে আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা হয়নি। তবে বিষয়টি ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে স্বীকার করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গবেষণায় ঋণমুক্তি উদ্যোগের আওতায় থাকা দেশগুলোর ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি বিনিয়োগের সম্পর্কও পরীক্ষা করা হয়েছে। বিশেষ করে হাইলি ইনডেটেড পুওর কান্ট্রিজ (এইচআইপিসি) উদ্যোগের আওতায় ঋণমুক্তি পাওয়া দেশগুলোতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী অবস্থার সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগের সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে বেশি জোরালো পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, ঋণমুক্তির অভিজ্ঞতা থাকা দেশগুলো আর্থিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে তুলনামূলক বেশি সুবিধা পেতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
তবে এই ফলাফলকে সব ভঙ্গুর ও সংঘাত-আক্রান্ত দেশের জন্য একইভাবে প্রযোজ্য বলে বিবেচনা করা যাবে না। কারণ এসব দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকতে পারে।

২০২৬ সালে বাড়বে প্রবৃদ্ধি, তবু থাকবে অর্থনৈতিক চাপ

আইএমএফের Macroeconomic Developments and Prospects in Low-Income Countries—2026 প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় অর্থনীতিগুলোর নীতিগত পরিবর্তনের কারণে স্বল্প আয়ের দেশগুলো সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। বাণিজ্যনীতি, অভিবাসন, সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার এবং বৈদেশিক সহায়তার পরিবর্তন এসব দেশের অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করছে।

খাদ্য ও জ্বালানির দাম কমে আসা এবং মার্কিন ডলারের দুর্বলতা কিছুটা স্বস্তি দিলেও সরকারি উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়ায় অনেক দেশ ইতিমধ্যে চাপে পড়েছে। একই সঙ্গে অভিবাসননীতি কঠোর হলে ভবিষ্যতে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বা রেমিট্যান্স প্রবাহও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, এ পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানো এবং প্রবৃদ্ধিকে গতিশীল করা জরুরি। অধিকাংশ স্বল্প আয়ের দেশের জন্য আর্থিক সংহতি বা ফিসক্যাল কনসলিডেশন অব্যাহত রাখার প্রয়োজন রয়েছে। তবে প্রতিটি দেশের বাস্তবতা অনুযায়ী এর গতি ও ধরন নির্ধারণ করতে হবে। এ জন্য অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং সরকারি অর্থ ও ঋণ ব্যবস্থাপনায় উন্নতি আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে টেকসই মুদ্রানীতি ও বিনিময় হার নীতি বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষার পাশাপাশি সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক মান এবং বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক কাঠামোগত সংস্কারও প্রয়োজন।

কর ছাড় নয়, আগে শক্তিশালী করতে হবে প্রতিষ্ঠান

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বিভিন্ন ধরনের কর ছাড় ও আর্থিক প্রণোদনা অনেক দেশের নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায়। তবে আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্থিক শৃঙ্খলা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্তিশালী না হলে এসব প্রণোদনার কার্যকারিতা সীমিত হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শক্তিশালী সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিনিয়োগকারীদের নীতিগত অনিশ্চয়তা কমাতে এবং বিনিয়োগের ঝুঁকি বিবেচনায় সম্ভাব্য মুনাফার আকর্ষণ বাড়াতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, আর্থিক প্রণোদনা বাছাই করে ব্যবহার করা উচিত এবং তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক শৃঙ্খলা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

এতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, বিনিয়োগ আকর্ষণের নীতি শুধু বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কর ছাড় দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বরং রাজস্বনীতি, সরকারি ব্যয়, ঋণ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা এমন পর্যায়ে উন্নীত করতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আস্থা পান।

আন্তর্জাতিক সহায়তার গুরুত্বও তুলে ধরেছে আইএমএফ

স্বল্প আয়ের দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি বাড়াতে আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। এর মধ্যে রয়েছে সহজ শর্তের অর্থায়ন, কারিগরি সক্ষমতা উন্নয়ন এবং আইএমএফের নীতিগত সহায়তা।

বিশেষ করে দরিদ্রতম ও ভঙ্গুর স্বল্প আয়ের দেশগুলোর জন্য সীমিত সহজ শর্তের অর্থায়ন যথাযথ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বরাদ্দ করার কথা বলা হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে আইএমএফের গবেষণা ও প্রতিবেদনের বার্তা হলো, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে শুধু আর্থিক প্রণোদনা যথেষ্ট নয়। টেকসই সরকারি অর্থব্যবস্থা, কার্যকর আর্থিক প্রতিষ্ঠান, নীতির বিশ্বাসযোগ্যতা, সুশাসন এবং দেশভিত্তিক কাঠামোগত সংস্কারের সমন্বয় বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভা চলাকালে এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

সংস্থাটির সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে। গত এপ্রিলে প্রকাশিত পূর্বাভাসে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা দেখিয়েছিল সংস্থাটি। একই সময়ে দেশে গড় মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ফলে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ৩ দশমিক ৪ শতাংশের পূর্বাভাস দিয়েছে। অন্যদিকে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাসও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে আজ ব্যাংককে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা চেয়েছেন। বিশ্ব অর্থনীতির চিত্রও পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপ সৃষ্টি করছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধিকে কিছুটা সহায়তা করছে।

আইএমএফের মতে, অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি অর্থব্যবস্থার সক্ষমতা পুনরুদ্ধার, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা জরুরি।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram